সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (Dearness Allowance) দাবি জানিয়ে আসছে, যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পূর্ণাঙ্গ স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করেছিল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে আগামী ৩০ মে আন্দোলনকারীদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই দিনক্ষণের কথা মাথায় রেখেই মামলার শুনানি জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। কবে হবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক?
পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি
আদালত সূত্রে খবর, এদিন শুনানিতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছিল যে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনার দিনক্ষণ স্থির হয়েছে। আসলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৩০ মে এই দিনক্ষণ ধার্য করেছিলেন। তবে ফের দু’দিন বাড়িয়ে আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী নিজে আন্দোলনকারী কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।
আর এই অগ্রগতির কথা জানার পর বিচারপতি জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই জট কাটানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। সেই কারণে আদালত মামলার শুনানি আগামী জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার আগেই নতুন রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে তারা ঠিক কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
না বললেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার লড়াই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগের তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আর শীর্ষ আদালত আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের দান নয়, এটি তাঁদের আইনি অধিকার। সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পুরনো বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ তাদেরকে অবিলম্বে মেটাতে হবে, এবং বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, অবশিষ্ট ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা অন্তত ৩১ মার্চের মধ্যেই মেটাতে হবে।

আরও পড়ুন: রেল স্টেশনে মহার্ঘ হল খাবার, জানুন কীসের কত দাম বাড়ল?
তবে সেই দাবিকেও মান্যতা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। আর তারই মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই কারণে কর্মচারীরা আশাবাদী যে, নতুন সরকার হয়তো তাদের দাবিদাওয়া পূরণ করবে। এখন আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেই দিকেই নজর থাকবে সকলের।










