সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করবে না রাজ্য সরকার, এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে এবার কাটমানি, দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এমনকি এই পরিষেবার উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। সেক্ষেত্রে রাজ্যের জনগণ দুর্নীতি দেখলেই সরাসরি রাজ্য সরকারকে টোল ফ্রি নম্বরের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবে।
চালু হল টোল ফ্রি নম্বর
আজ ভবানীভবনে এক প্রশাসনিক সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই টোল ফ্রি নম্বরগুলির ঘোষণা করেছেন। এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, এবং প্রত্যেক নাগরিককে সেই লড়াইতে অংশগ্রহণ করার অনুরোধও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যে কোনও জায়গায় দুর্নীতি দেখলেই তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যে চারটি হেল্পলাইন নম্বর জারি করা হয়েছে সেগুলি হল—
- কোনও জায়গায় কাটমানি নিয়ে দুর্নীতির ঘটনা সামনে এলে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে ১৫৫৩৩৪ নম্বরে।
- সিন্ডিকেট সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জানাতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে ১৫৫৩৩৫ নম্বর।
- রাজ্যের যে কোনও রাস্তায় অনৈতিক কিংবা অবৈধভাবে টোল আদায় বা রোড ট্যাক্স নিতে দেখলে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে ১৫৫৩৩৭ নম্বরে।
- এর পাশাপাশি অবৈধ মদ নিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে ১৫৫৩৩৯ নম্বর।
আসলে বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি, তোলাবাজি ইত্যাদির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় ছিল রাজ্য রাজনীতি। সবথেকে বড় ব্যাপার, সম্প্রতি ক্যাগের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি খাতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য এই টোল ফ্রি নম্বরগুলি জারি করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
আরও পড়ুন: রাঁচির ভিডিও দেখিয়ে কলকাতার বলে চালাচ্ছিল বামেরা, জানুন আসল সত্যি
এমনকি এই টোল ফ্রি নম্বর চালু নিয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগারওয়াল জানান, রাজ্যের যে কোনও প্রান্ত থেকেই এবার যে কোনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি প্রত্যেকটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে। এমনকি অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত জমা দিতে হবে।










