বদলে গেল সিঙ্গুর তাপসী মালিক কৃষি বাজারের নাম, কী রাখা হল?

Published:

Singur

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ঐতিহাসিক সিঙ্গুর (Singur) আন্দোলনের শহীদ তাপসী মালিকের নামে চলা সিঙ্গুর তাপসী মালিক কৃষক বাজারের নাম বদলে দিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। তাপসী মালিকের নাম সরিয়ে এবার শুধুমাত্র সিঙ্গুর কৃষক বাজার নামেই চলবে এই বাজার। এমনকি নীল-সাদা বোর্ড বদলে লাল-সাদা রঙে নতুন করে নাম লেখা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন করছে বিজেপি সরকার। আর এবার সিঙ্গুরেও সেই একই চিত্র।

বদলে গেল সিঙ্গুর কৃষক বাজারের নাম

জানিয়ে রাখি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের ক্ষেত্রে সিঙ্গুর আন্দোলনের ভূমিকা অপরিহার্য। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা স্থাপনের জন্য সিঙ্গুরের কৃষকদের উপর জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু সেখানেই পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমোর নেতৃত্বে তৈরি হয় কৃষিজমি রক্ষা কমিটি। তারপর দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে ২০০৮ সালে টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর থেকে বিদায় নেয়। কিন্তু সেই আন্দোলন চলাকালীন ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর টাটার প্রস্তাবিত কারখানার জমি থেকেই তাপসী মালিকের অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই শহীদ তাপসী মালিকের নামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর বাজারের নাম পরিবর্তন করে রাখেন সিঙ্গুর তাপসী মালিক কৃষি বাজার।

এবার সেই নামই পরিবর্তন করার পথে হাঁটল রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরূপ কুমার দাসের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য এই পরিবর্তন করা হয়েছে। সিঙ্গুরের মানুষ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেনি। সরকারই পরিবর্তন করে, এবং সরকারই তার ফল ভোগ করে। সিঙ্গুর আন্দোলনের কারণে আদতে উন্নয়নের বদলে এখানকার মানুষের ক্ষতি হয়েছে। এই সিঙ্গুর আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: রেলের টিকিট থেকে এলপিজির দাম, ১ আগস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে ৫ নিয়ম

যদিও এ বিষয়ে শহীদ তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন রাজ্যে সব কিছুতেই বদল এসেছে। সবটাই মেনে নিতে হবে। যদিও মেয়ের নাম মুছে যাওয়ার কারণে তাঁর গলায় আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এমনকি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না তরফ থেকেও কোনও সাড়া মেলেনি।