অনন্যা সরকার, কোচবিহার: তিনি ১২ জন বিএসএফ জওয়ানকে বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন একা। তার জন্য নিজের পৈতৃক বাড়িটিও ছাড়তে হয়েছিল। পরে বিএসএফ তাঁকে একটি ছোট জমি দেয় বসবাসের জন্য। তারপর থেকে কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার (Border Fence) কাছেই বাস করছেন আব্দুল হামিদ (Cooch Behar Man Abdul Hamid)। কিন্তু এখন ওই এলাকাটি কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হবে, তাই প্রশাসন আব্দুলকে নির্দেশ দিয়েছে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে। এই আদেশ শুনেই মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছে আব্দুলের। কোথায় যাবেন তিনি এখন – এই প্রশ্ন নিয়ে প্রৌঢ় প্রশাসনের কাছে ছুটে গিয়েছেন। কয়েকদিন ধরে নানা জায়গায় ছোটাছুটির পর অবশেষে শনিবার তিনি একটি আশ্বাসবাণী পেয়েছেন।
সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি ছাড়ার নির্দেশ প্রৌঢ়কে
আব্দুল হামিদ আগে কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জ সীমান্তের কাছে সেউতিকুরশায়, ভারতীয় ছিটমহল নং ১৪২-এ থাকতেন। জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে কিছু বাংলাদেশের নাগরিক সেখানে প্রায় ৬৫ বিঘা জমিতে জোর করে চাষাবাদ শুরু করলে অশান্তির সৃষ্টি হয়। বিএসএফ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করলে, একদল দুষ্কৃতী তাদের মধ্যে প্রায় ১২ জন জওয়ানকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ করে। সে সময় কোনও দিকে না তাকিয়ে তরুণ আব্দুল সৈন্যদের রক্ষা করতে ছুটে গিয়েছিলেন।
তবে বারংবার বাধা ও আক্রমণের কারণে তিনি সেই ভিটে ছাড়তে বাধ্য হন। বিএসএফ তাঁকে দিনহাটা-২ ব্লকের সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শচীনন্দন ক্যাম্পের কাছে কাঁটাতারের বেড়ার সংলগ্ন একটুকরো জমিতে থাকার প্রস্তাব দেয়। এখানেই একটি ছোট বাড়ি তৈরি করে পরিবারের সাথে বসবাস শুরু করেন তিনি। এতদিন সবকিছু ভালোই কাটছিল, কিন্তু প্রায় মাসখানেক আগে তাদের সেই জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের বাড়ি ভেঙে সেখানে কাঁটাতার বসানো হবে।
আরও পড়ুন: সবুজ জঙ্গল ও পাহাড়, বর্ষা থাকতে ঘুরে আসুন ঝর্ণার রাজ্য জগদলপুর থেকে
আব্দুল তার একমাত্র আশ্রয়স্থলটুকু বাঁচানোর জন্য বিডিও থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক (SDO) পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। তিনি বাড়ি ভাঙার আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর কোচবিহার-২ ব্লকের বিডিও লমহু ওয়াংদি আশ্বাস দেন যে, এখনও তাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, প্রক্রিয়া শুরু হলে আব্দুল ও তাঁর পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বিডিও বলেছেন, আব্দুল শুক্রবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর পরিবারের অবস্থা জানার পর প্রশাসন কিছু রেশন সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছে। বাকি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: কেতুর গোচরে আগামী ৭১ দিন ৫ রাশির সোনায় সোহাগা, আসবে অর্থ, কর্মে উন্নতি
এদিকে, দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়ের কানেও আব্দুলের দুর্দশার কথা পৌঁছেছে। তিনি বলেন যে, বিএসএফ-এর দেওয়া জমিতেই এতদিন বাস করছিলেন আব্দুল, কিন্তু এখন কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, ফলে তাঁকে অন্যত্র যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক জানান, আব্দুল হামিদ তাঁর কাছে এসে নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁকে সাহায্য করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব আব্দুল এই কথা শুনে আশ্বস্ত হলেও, অনিশ্চয়তা এখনও মন থেকে পুরোপুরি কাটেনি। কমবয়সে যেভাবে উচ্ছেদ হতে হয়েছিল, এই বয়সে এসে সেই স্মৃতি আবারও তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে।










