হুগলি নদীর তীরে এবার ডলফিন পার্ক, গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে নয়া পদক্ষেপ রাজ্যের

Published:

Dolphin Park in West Bengal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলজ জীববৈচিত্রের সংরক্ষণ এবং ইকো-ট্যুরিজম প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে যৌথভাবে হুগলী নদীর (Hooghly River) তীর ঘেঁষে ডলফিন পার্ক (Dolphin Park) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। একটি পার্কের জায়গা ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, তবে অপরটি কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যে দুটি ডলফিন পার্ক তৈরি করার কথা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তৈরি করা হবে। 

রাজ্যে তৈরি হবে দুটি নতুন ডলফিন পার্ক

রাজ্যে ডলফিন পার্ক তৈরি করার পিছনে মূল উদ্দেশ্য হল জলজ বাস্তুতন্ত্রের উপযুক্ত সংরক্ষণ, নদী পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের বিকাশ ঘটানো। এই প্রকল্পটি ‘নমামি গঙ্গে’ (Namami Gange)-এর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে, যা গঙ্গা ও তার শাখা নদীগুলিকে পরিষ্কার রাখা ও বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা গৃহীত এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। হুগলি নদী গঙ্গার উপনদী, যা পশ্চিমবঙ্গের এক বিরাট অংশের জলজ বাস্তুতন্ত্র ও জলবায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গঙ্গার ডলফিন বা শুশুক (Ganges River Dolphin) হল ভারতের জাতীয় জলচর প্রাণী এবং ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ডলফিনগুলিকে সংরক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN) এই প্রাণীটিকে ‘এনডেঞ্জার্ড’ বা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০২২-২০২৩ সালের সমীক্ষায় ভাগীরথী-হুগলি নদীবক্ষে মাত্র ৩০৩ টি ডলফিনের হদিস পাওয়া যায়। গাঙ্গেয় ডলফিনের সুরক্ষা ও সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করারও প্রচেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুনঃ মাত্র ১৫ ঘন্টায় কলকাতা থেকে দিল্লি, বাংলা পাচ্ছে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার

কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল জানিয়েছেন যে, কলকাতায় পাঁচটি নিকাশি বর্জ্য শোধন কেন্দ্র বা সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে হুগলি নদীতে অপরিশোধিত নিকাশির জল এসে মেশার পরিমাণ অনেক কমবে। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে জল মিটার ব্যবহারের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে ডলফিন পার্ক তৈরি হলে হুগলি নদী সংলগ্ন অঞ্চলে পর্যটন শিল্প ও কর্মসংস্থানের পরিসর তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।