হতে পারে জরিমানা, কারাদণ্ড! বাংলার স্কুল শিক্ষকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা শিক্ষা দফতরের

Published:

Teacher

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত শিক্ষক (Teacher) ও অশিক্ষক কর্মীদের (Non Teaching Stuff) উদ্দেশ্যে শিক্ষা দফতর করল বড় ঘোষণা। তাঁদের প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলকভাবে জনগণনায় (Census) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক শিক্ষা) দফতর ২০২৭ সালের জনগণনা কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিশ্চিতভাবে জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি কোনো কর্মী এতে আপত্তি করেন তাহলে তিনি শাস্তির সম্মুখীনও হতে পারেন। 

জনগণনা অংশগ্রহণ না করলে হতে পারে জরিমানা ও কারাদণ্ড

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক শিক্ষা) দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, জনগণনা আইন, ১৯৪৮-এর নির্দিষ্ট ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জনগণনার কর্মসূচিতে থাকা বাধ্যতামূলক। এমনকি দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও কারাদণ্ডও হতে পারে। এই নিয়মকে কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের প্রধানকে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

ভারতে শুরু হয়েছে জনগণনা

এদেশে জনশুমারির কাজের প্রথম ধাপ শুরু হয়ে গেছে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং এখন দেশের ১৬ তম জনগণনা চলছে। স্বাধীনতার পরে এটি অষ্টম আদমশুমারি। শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। সাধারণত প্রতি ১০ বছরের একবার করে জনগণনা করা হয়। কিন্তু কোভিডের অতিমারির কারণে ২০২১ সালের জনগণনাটি হয়নি। সেটাই পাঁচ বছর পিছিয়ে গিয়ে এবার শুরু হয়েছে। ১৫ বছর পর ভারতের জনগণনার এই বিপুল কর্মসূচি এক বছর ধরে চলবে। প্রায় ৩০ লক্ষ সরকারি কর্মী বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজটি সম্পন্ন করবেন। 

জানা গেছে, এবারের জনগণনা হবে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে কিছু দিন ধার্য করা হচ্ছে নাগরিকেরা যাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজেদের সর্ম্পকে সমস্ত তথ্য জমা করতে পারেন। সেজন্য অনলাইন ফর্ম পূরণের ব্যবস্থাও রেখেছে সরকার। একটি সেল্ফ এনুমারেশন পোর্টাল চালু করা হবে। নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে সেখানে যাবতীয় তথ্য জমা করা যাবে। সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার জন্য অ্যাপটিতে ইংরেজি ও হিন্দির পাশাপাশি ১৪টি আঞ্চলিক ভাষায় কাজ করা যাবে। অ্যাপে প্রশ্নের সংখ্যা থাকবে ৩৩।

ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জনগণনা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি জানিয়ে বলেন, অনলাইনে ফর্ম ফিল-আপ করে জমা দেওয়ার পরে নাগরিকদের একটি আইডি দেওয়া হবে। গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনালাইনে দাখিল করা সব তথ্য আবারও যাচাই করবেন। গ্রহণ করা হলে যাচাই করা সব তথ্য অনলাইনে আপলোড হবে। রেজিস্ট্রার জেনারেল আগেই জানিয়েছেন, এবারের জনগণনা হতে চলেছে ডিজিটাল।

আরও পড়ুনঃ দিঘার অদূরেই রয়েছে একদম অচেনা ও অফবিট এক জলপ্রপাত, যাবেন নাকি এই স্বর্গে?

সেল্ফ এনুমারেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে গৃহগণনা। অর্থাৎ কতজন পাকা এবং কতজন কাঁচা বাড়িতে থাকেন, বাড়ির ছাদ কেমন, বাড়িতে কী কী রয়েছে- এই সমস্ত দেখা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দাদের তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থান, জীবিকা, বেতন সম্পর্কিত তথ্যগুলি নথিভুক্ত করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই প্রথমবার জনগণনার সঙ্গে জাত গণনাও করা হবে বলে জানা গেছে। এত দিন শুধু তফসিল জাতি ও উপজাতি গণনা করা হত। এবারই প্রথম অন্যান্য অনগ্রসর জাতিভুক্ত (OBC) মানুষদের চিহ্নিত করা হবে।

📱 এখনই ইন্সটল করুন