বিকেলে যোগ, রাতেই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বিরাট চমক দিল বিজেপি (Bhartiya Janata Party)। বিকেলেই তৃণমূল (Trinamool Congress)ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন সংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। আর রাতেই এই তিনজনকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল বিজেপি

রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি

তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দুশেখর রায় বৃহস্পতিবার বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়ে দলে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তাঁরা দলে যোগ দেন। তিনজনে শমীক ভট্টাচার্য-এর হাত থেকে তুলে নেন গেরুয়া পতাকা। এদিকে এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁদের রাজ্যসভা (Rajyasabha Election) প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

জল্পনা ছিল সকলকে হয়তো প্রার্থী নাও করতে পারে গেরুয়া শিবির। তবে সব জল্পনায় জল ঢেলে তৃণমূলের প্রাক্তন এই তিন হেভিওয়েটকে প্রার্থী করল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মধ্যে এই তিন নেতা গত মাসেই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করে ঘাসফুল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এখন তাঁরা তাঁদের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া রাজ্যসভার আসনগুলির উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বিজেপি জানিয়েছে যে, এই তিন প্রাক্তন সাংসদ তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের যখন তার সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়েই তিনজনের বিজেপি দলে যোগদান যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হবে সেটা বলাই বাহুল্য।

কে কবে পদত্যাগ করেন?

সুখেন্দু শেখর রায় ৮ই জুন রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ১০ই জুন দেব এবং ১১ই জুন প্রকাশ বরাইক পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর বরাইক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন, অন্যদিকে সুস্মিতা দেব দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে দেখা করেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই সুখেন্দুশেখর রায় তৃণমূল নেতৃত্বের সমালোচক হয়ে উঠছিলেন ধীরে ধীরে। কফিনে শেষ পেরেক তখন পড়ে যখন ২০২৪ সালের আগস্টে, কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। দলের মধ্যে তাঁকে একঘরে করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।