প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে সময় যত এগিয়ে আসছে ততই যেন উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। এদিকে SIR নিয়েও তুঙ্গে তরজা চলছে রাজ্য এবং নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে। গতকাল, বুধবার এসআইআর মামলার শুনানিতে এক নজিরবিহীন দৃশ্য চাক্ষুষ করেছিল গোটা দেশ। সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে খোদ আইনজীবীদের সঙ্গে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তুলে ধরেছিলেন একাধিক অভিযোগ। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধেয় ফের নবান্নকে কড়া চিঠি হাতে ধরাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন।
রাজ্য সরকারকে কড়া চিঠি কমিশনের
রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন যে চিঠিটি নবান্নকে পাঠিয়েছিল তাতে মোট চারটি গুরুতর অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেগুলি হল -১/ কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, দু’জন ERO, দু’জন AERO এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২/ বসিরহাটের এক AERO ও BDO-র বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে অতিরিক্ত AERO নিয়োগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এখনও সাসপেন্ড করা হয়নি। ৩/ তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়নি, যা কমিশনের নির্দেশের পরিপন্থী। এবং এখনো সেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। ৪/ কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম না মেনে SDO/SDM স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
On a day, CM #MamataBanerjee raised her voice against the #ECI in #SupremeCourt; ECI writes to WB #ChiefSecretary on a list of non compliance of various directions of the poll body with regards to #SIR. Seeks compliance report by Monday, 3pm. pic.twitter.com/zrTDq90y4c
— Sreyashi Dey (@SreyashiDey) February 5, 2026
বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা
সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালকে কেন্দ্র করে যখন রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যসচিবকে দিয়ে কমিশনের পাল্টা চিঠিতে রীতিমত আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, নবান্নের রিপোর্ট তলব করার জন্য স্পষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে এই সব বিষয়ের বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না আসে তাহলে পরবর্তীতে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও SIR মামলায় নবান্নকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় আগে জানিয়ে দিয়েছিল যে হিয়ারিংয়ে থাকতে দিতে হবে BLA-দের! শুধু তাই নয়, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ও বিডিও অফিসে ঝোলাতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল। তখন মুখ্যসচিব, রাজ্যপুলিস ডিজি ও কলকাতা পুলিস কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে কমিশনের এই চিঠি SIR সংক্রান্ত রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থার টানাপড়েনকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসল। এখন দেখার, নবান্ন কমিশনের দেওয়া ডেডলাইন মেনে কাজ করতে পারে কিনা।












