অনুপ্রবেশ রুখতে এগিয়ে এল কৃষকরা, কাঁটাতারের জন্য জমি হস্তান্তর রাজ্যকে

Published:

India Bangladesh Border Fencing

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতা দখলের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘোষণা করা হয়েছিল আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার (India Bangladesh Border Fencing) লাগানোর জন্য জমি BSF-কে হস্তান্তর করা হবে। ইতিমধ্যেই ডেডলাইনের মেনে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য সরকারের পাশে এসে দাঁড়ালো কৃষকেরা। কাঁটাতার লাগানোর জন্য নিজেদের কৃষি জমি দিয়ে দিচ্ছেন চাষিরা (Farmers)।

জমি হস্তান্তর করতে এগিয়ে এসেছে কৃষকেরা

ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে প্রথম থেকেই তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মত পার্থক্য চলছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্বেও মমতা সরকার কিছুতেই কাঁটাতার লাগানোর জন্য জমি হস্তান্তর করছিল না BSF-কে। পরে সরকার বদল হতেই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জমি হস্তান্তর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। আর সেই সিদ্ধান্তে এবার পাশে দাঁড়ালো সীমান্তবর্তী কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এসে এখানে চুরি, ডাকাতি করত, ধান, সবজি কেটে নিয়ে যেত। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হত, সেক্ষেত্রে যদি এবার কাঁটাতার লাগানো হয় তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে।

স্বস্তির হাসি সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয়দের

গতকাল, শুক্রবার মালদার হবিবপুরে শুরু হয়েছে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার কাজ। অসংখ্য কৃষক তাঁদের জমির কাগজ নিয়ে আধিকারিকদের কাছে এসেছিল জমি হস্তান্তর করার জন্য। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদের রানীনগর, ভগবানগোলা, লালগোলা, জলঙ্গির মতো সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি। স্থানীয়দের কথায়, শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, গরু পাচার, জাল ওষুধ, মাদক পাচারকারীতে ভরে গিয়েছিল এলাকা। তবে এবার সেই সীমান্ত সুরক্ষিত হবে।

আরও পড়ুন: তারস্বরে লাউডস্পিকারে নিষেধাজ্ঞা চাপাতেই গোঁসা! আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু বাংলার সীমান্ত ২২১৬ কিলোমিটার, মেঘালয় সীমান্ত ৪৪৩ কিলোমিটার, অসম সীমান্ত ২৬৩ কিলোমিটার, ত্রিপুরা সীমান্ত ৮৫৬ কিলোমিটার এবং মিজোরামের সীমান্ত ৩১৮ কিলোমিটার। যার মধ্যে বাংলায় কাঁটাতার নেই প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার এলাকায়। এখন দেখার কত তাড়াতাড়ি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।