তারস্বরে লাউডস্পিকারে নিষেধাজ্ঞা চাপাতেই গোঁসা! আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা

Published:

Asansol

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রণক্ষেত্র আসানসোল (Asansol)! রাতের অন্ধকারে পুলিশ ফাঁড়িতে দেদার ভাঙচুর চালালো একদল জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে, আসানসোল উত্তর থানার জাহাঙ্গীর মহল্লায় (Jahangir Maholla)। চরম উত্তেজনা মূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ফাঁড়ির ভিতর যা যা ছিল সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরাও। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহতও হয়েছেন। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাতে আসানসোল উত্তর থানার জাহাঙ্গীর মহল্লায় পুলিশ ফাঁড়িতে দেদার ভাঙচুর চালিয়েছিল একদল যুবক। এমনকি ফাঁড়ির আশপাশে থাকা কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকা জুড়ে। চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে ফাঁড়ির ভিতর যা যা ছিল সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। এদিকে ইট পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, তাঁদের তড়িঘড়ি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর উচ্চ শব্দে লাউডস্পিকার বাজানো নিয়ে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শুরু করা হয়েছিল। যা মেনে নিতে পারেনি একাংশ, আর তাতেই রাগের বশে পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালায় কয়েক যুবক। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় বিরাট পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনার পিছনে কাদের হাত রয়েছে তা জানার জন্য তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুমান ইচ্ছে করে অশান্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে একাংশ।

তদন্তে নামল পুলিশ

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি পিভি সতীশ জানিয়েছেন “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে৷ নতুন করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা আপাতত নেই৷ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হবে।” অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর ফানসাবি আলিয়া জানান “এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। সকলের কাছে অনুরোধ, এলাকায় শান্তি বজায় রাখুন৷” এদিন এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুস্তফা।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহকে কটাক্ষ, চরম উস্কানি! অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের

প্রসঙ্গত, প্রত্যক্ষদর্শীরা থানা ভাংচুরের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কয়েকশো লোক মিলে ইঁট ছুঁড়তে শুরু করেছিল। এদিকে থানায় তখন উপস্থিত ছিল সংখ্যায় কম পুলিশকর্মীরা। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে প্রাণভয়ে ফাঁড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় পুলিশকর্মীরা। আর তখনই উন্মত্ত জনতা ফাঁড়ির ভেতর ঢুকে সমস্ত কিছু ভাঙচুর চালায়।