বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “আগামী এক বছর অনুষ্ঠান থাকলেও সোনা কিনবেন না।” কিছুদিন আগেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এমন বার্তাই দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Income With Gold)। আর তার পর পরই দেশে সোনার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বর্তমান ঘাটতির কথা মাথায় রেখেই সোনা আমদানির উপর শুল্ক বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে সোনার উপর কার্যকর হওয়া আমদানি শুল্ক 6 শতাংশ থেকে বেড়ে 15 শতাংশ হয়েছে। এরমধ্যে 10 শতাংশ মৌলিক কাস্টম শুল্ক এবং 5 শতাংশ কৃষি অবকাঠামো এবং উন্নয়ন Cees রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে স্বর্ণের। এমতাবস্থায়, বেশি দাম দিয়ে সোনায় বিনিয়োগ না করে বাড়িতে থাকা সোনা থেকেই আয় করতে পারেন মোটা টাকা। কীভাবে?
পথ দেখাচ্ছে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম
সোনা নগদীকরণ বা গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্পের অধীনে একজন ভারতীয় তাঁর বাড়িতে সঞ্চিত সোনা বা সোনার গহনা ব্যাঙ্ক লকারে জমিয়ে রাখতে পারেন। এর পরিবর্তে গচ্ছিত সোনার বিনিময়ে মিলবে মোটা সুদ। পরিপক্কতার উপর নির্ভর করে গ্রাহক তাঁর সোনার বর্তমান মূল্য অনুযায়ী সুদ সহ টাকা নিতে পারবেন। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য, ভারতীয়দের বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরে পড়ে থাকা সোনা ব্যবহার করে দেশে সোনা আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানো।
গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের প্রধান শর্ত
গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের অধীনে সোনা রাখার আগে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আপনি যদি এই স্কিমের মাধ্যমে লকারে সোনার গহনা জমা দেন সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে আপনি কিন্তু সেই একই গহনা পাবেন না। বরং ব্যাঙ্ক আপনার গহনা গলিয়ে সেটি থেকে সোনার বার বানাবে। একই সাথে আপনার সোনা নেওয়ার সময় তার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখবে কর্তৃপক্ষ।
কীভাবে নিজের কাছে থাকা সোনা থেকে আয় করবেন?
বাড়িতে থাকা সোনা থেকে আয় করতে হলে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে সোনা বিনিয়োগ করতে হবে। এর জন্য অনুমোদিত ব্যাঙ্ক যেখানে গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্পটি রয়েছে সেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কেওয়াইসি সম্পন্ন করে একটি জিরো ব্যালেন্সের গোল্ড অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যাঙ্ক আপনার সোনাটির বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার জন্য জমা নেবে। পরবর্তীতে সোনা বিশুদ্ধ হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আপনার সোনার ওজন সহ বর্তমান বাজার অনুসারে দাম পরবর্তী 30 দিনের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে। আপনাকে দেওয়া হবে সার্টিফিকেটও। এক কথায় আপনার সোনা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে এখানে। সেই সাথে ওই সোনা থেকে সুদ সমেত আয় হবে মোটা টাকা।
অবশ্যই পড়ুন: পাহাড়ের উঁচুতে প্রাচীন সতীপীঠ, ঘুরে আসুন গরমের ছুটিতে
প্রসঙ্গত, গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্পের অধীনে কিছু ব্যাঙ্ক বছর বছর সুদ দিয়ে থাকে। কিছু ব্যাঙ্ক আবার মাসে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার উপর সুদ দেয়। সেক্ষেত্রে নিজের সোনা জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই এই প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন। একই সাথে এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পূর্বে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।










