পাহাড়ের উঁচুতে প্রাচীন সতীপীঠ, ঘুরে আসুন গরমের ছুটিতে

Published:

Maa Tarini Temple

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আপনি কি জানেন, ভারতের বুকে এমন এক জায়গা রয়েছে যেখানে পাহাড়ের ওপর রয়েছে এক সতীপীঠ। পাহাড়ের উচ্চতায় থাকার দরুন এই মন্দিরের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এরকম জায়গা কোথায় আছে? তাহলে আপনাকে যেতে হবে ওড়িশা। এখানেই পাহাড়ের উচ্চতায় রয়েছে তারা তারিণী মন্দির, যা দেখলে আপনি আপনার চোখকে বিশ্বাস করতে পারবেন না। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

ঘুরে আসুন পাহাড়ে থাকা এই সতীপীঠ থেকে

ওড়িশা হল এমন এক জায়গা যেখানে সমুদ্র ও পাহাড় দুটোই উপভোগ করতে পারবেন। উত্তরবঙ্গের মতো এই ওড়িশাতেও রয়েছে এমন কিছু অফবিট জায়গা যেখানে আপনি অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন। আজকের এই প্রতিবেদনে তেমনই একটি জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেব যেখানে গেলে আপনার মন, প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। তারা তারিণী আদি শক্তিপীঠ ওড়িশার গঞ্জাম (Maa Tarini Temple, Ghatgaon) জেলার ব্রহ্মপুর শহরে অবস্থিত। বিভিন্ন পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, মনে করা হয় যে ভারত এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৫১ বা ৫২টি শক্তিপীঠ রয়েছে, কিন্তু এমন ৪টি স্থান আছে যা আদি শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। তারা তারিণী মন্দির সেই আদি শক্তিপীঠগুলির মধ্যে একটি, যা ‘স্থান পীঠ’ নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে ফের ঝড়-বৃষ্টির দাপট, ৪ জেলায় সতর্কতা, আজকের আবহাওয়া

ব্রহ্মপুর শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত তারা তারিণী আদি শক্তিপীঠে দেবী তারা ও তারিণীর দুটি প্রাচীন পাথরের মূর্তি রয়েছে। এই মূর্তিগুলি সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে সজ্জিত। এছাড়াও, মূর্তি দুটির মাঝখানে জীবন্ত মূর্তি নামে পরিচিত দুটি পিতলের মুখ রয়েছে। তারা তারিণী আদি শক্তিপীঠকে শক্তিতন্ত্রের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেবী সতীর বক্ষ বা স্তন এখানে পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এটি দক্ষিণ ওড়িশার প্রধান অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এখানে রয়েছে রোপওয়ে। রয়েছে সিঁড়িও যেটা দিয়ে পাহাড়ে ওঠা যায়।

কীভাবে পৌঁছাবেন?

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এখানে কীভাবে পৌঁছাবেন? সেক্ষেত্রে তারা তারিণী আদি শক্তিপীঠের নিকটতম বিমানবন্দর হল ভুবনেশ্বর, যা মন্দির স্থান থেকে প্রায় ১৭৬ কিমি দূরে অবস্থিত। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল ব্রহ্মপুর, যা প্রায় ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে ব্রহ্মপুরের দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিমি। সড়কপথেও মন্দিরে পৌঁছানো বেশ সহজ। ব্রহ্মপুর পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ব্রহ্মপুর থেকে স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করে এই সতীপীঠে আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন। এখান থেকে আপনি গোপালপুর সি বিচও ঘুরে আসতে পারেন।