আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেল পরিষেবার গুরুত্ব অপরিসীম। রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের। তাই তুলনামূলক কম খরচে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছে ট্রেনই অন্যতম ভরসা। প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে, পড়াশোনা কিংবা ব্যবসার কাজে অসংখ্য মানুষ রেলপথে যাতায়াত করেন। যাত্রীদের এই বিপুল নির্ভরতার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক রেলস্টেশন (Railway Stations) থেকে উল্লেখযোগ্য আয়ও হয়।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের যাত্রী টিকিট বিক্রির আয়ের নিরিখে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য স্টেশন:
হাওড়া জংশন
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জংশন। হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই স্টেশন কলকাতা ও রাজ্যের অন্যতম প্রধান রেল যোগাযোগের কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে হাওড়ার সরাসরি রেল যোগাযোগ রয়েছে। দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে যাওয়ার ট্রেন এখান থেকে পাওয়া যায়। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী এই স্টেশনের উপর নির্ভর করেন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে হাওড়া স্টেশন থেকে যাত্রী টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ১,৬৯২.৪০ কোটি টাকা।
শিয়ালদহ রেলস্টেশন
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশন। শহর ও শহরতলির মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই স্টেশন। উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ লোকাল ট্রেনে করে শিয়ালদহে পৌঁছন। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গেও এই স্টেশনের রেল যোগাযোগ রয়েছে। কর্মসূত্রে কলকাতায় আসা মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী, সকলের কাছেই শিয়ালদহের গুরুত্ব যথেষ্ট। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই স্টেশনের যাত্রী টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৪৯০.৭০ কোটি টাকা।
নিউ জলপাইগুড়ি জংশন
উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের কেন্দ্র নিউ জলপাইগুড়ি জংশন। শিলিগুড়ির কাছে অবস্থিত এই স্টেশন উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি দার্জিলিং, সিকিম ও ডুয়ার্সে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে আসা দূরপাল্লার ট্রেন এখানে থামে। পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা, বহু মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই স্টেশন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের যাত্রী টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৩৫৪.১১ কোটি টাকা।
শালিমার স্টেশন
এরপর রয়েছে হাওড়া শহরের শালিমার স্টেশন। হাওড়া স্টেশনের উপর যাত্রী ও ট্রেনের চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও এই টার্মিনালের গুরুত্ব রয়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে শালিমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন বহু যাত্রী এই স্টেশন থেকে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে শালিমার স্টেশন থেকে যাত্রী টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছিল প্রায় ২৯১.৭৮ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: ট্রেনে বাজি-পটকা নিয়ে উঠলেই বিপদ! ১০ হাজার টাকা জরিমানা, হতে পারে জেলও
কলকাতা স্টেশন
পঞ্চম স্থানে রয়েছে কলকাতা স্টেশন, যা চিৎপুর স্টেশন নামেও পরিচিত। উত্তর কলকাতার এই রেল টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। পাশাপাশি বাংলাদেশগামী আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিষেবার ক্ষেত্রেও এই স্টেশনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাওড়া ও শিয়ালদহের পাশাপাশি কলকাতার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই স্টেশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কলকাতা স্টেশনের যাত্রী টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১৯৫.৮০ কোটি টাকা।










