অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট, অবশেষে গড়িয়ার সেই ক্লক টাওয়ার গুঁড়িয়ে দিল সরকার

Published:

Garia Clock Tower Demolished

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে সরকার পালাবদল হতেই বেআইনি নির্মাণে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার। উত্তরপ্রদেশের মতোই কলকাতাতেও অবৈধ নির্মাণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । ইতিমধ্যেই তপসিয়ার চামড়ার কারখানার সমগ্র বহুতলটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এমতাবস্থায় গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠে বেআইনি ক্লক টাওয়ার (Garia Clock Tower Demolished) ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।

কলকাতায় ফের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেসিবি দিয়ে তপসিয়ার চামড়ার কারখানার সমগ্র বহুতলটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে গতকাল থেকেই। বুধবার নবান্ন বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জলের লাইন কেটে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। তাই যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান।” আর সেই নির্দেশের পরই তৎপর হয়ে উঠল পুরসভা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ক্লক টাওয়ার।

ভেঙে দেওয়া হল ক্লক টাওয়ার

রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ বছর আগে, গড়িয়ার মিতালি সঙ্ঘ ক্লাবের খেলার মাঠেরই এক কোণে তৈরি করা হয়েছিল বেআইনি ক্লক টাওয়ার। যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ দাসও। এদিকে ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই বেআইনিভাবে, তাদের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে এটি।

জানা গিয়েছে, গত বছর কলকাতা হাইকোর্টও ক্লক টাওয়ারকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিল। টাওয়ার ভাঙতে ২ মাসের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু বেআইনি ক্লক টাওয়ার ভাঙতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুরসভাকে। তবে এবার প্রশাসনিক রদবদল হতেই সেই জট কাটল।

আরও পড়ুন: স্কুল, কলেজ থেকে অফিস সব বন্ধ! ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকারের, কবে?

বেআইনি ক্লক টাওয়ার ভেঙে দেওয়ায় খুশির জোয়ার দেখা গিয়েছে গড়িয়ার মিতালি সঙ্ঘের। সেখানকার কোষাধ্যক্ষ অসীম মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “এটা আইনের জয়। বর্তমানে যারা এসেছেন, সহযোগিতা করেছেন, আমাদের মিতালি সঙ্ঘ ক্লাব তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে।” এদিকে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলের দাবি, স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল ক্লক টাওয়ারটি।