সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সারদা থেকে রোজ ভ্যালি, চিটফান্ডে (Chit Fund) টাকা লগ্নি করে সর্বস্ব হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। নতুন সরকারের কাছে একটাই দাবি, যাতে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াতে সমস্যা না হয়। এবার তাই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সে চাকরি বাতিল হোক বা চাকরি বরখাস্ত, কোপ পড়ছে সাধারণের উপর। এবার হাইকোর্ট স্পষ্ট বলল, আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে গিয়ে কোনও কাজ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
চিটফান্ডের টাকা ফেরাতে তৎপর হাইকোর্ট
উল্লেখ্য, নতুন সরকার অবসরপ্রাপ্তদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি যারা ৬০ বছর বয়স পেরয়ে যাওয়া সত্ত্বেও চাকরিরত, তাদেরকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এর জেরে যাতে কোনও ভাবে চিটফান্ডের আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য গঠিত তালুকদার কমিটির কাজ বিঘ্ন না হয়, রাজ্য সরকারকে সেই নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আর সেখানে একথা জানানো হয়েছে।
আমানতকারীদের তরফ থেকে আইনজীবী অরিন্দম দাস স্পষ্ট বলেন, নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তবে সরকারের বিভিন্ন পদে এতদিন বসে থাকা অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের চাকরি বাতিল হয়েছে। গত ১১ মে থেকে পরপর তিনটি নির্দেশিকাও জারি করেছে রাজ্য সরকার। এ কারণে হাইকোর্ট নিযুক্ত চিটফান্ডের বিচারপতি তালুকদার কমিটির কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যেহেতু এই কমিটির ১১ জন অফিসারকে অবসরের পর নিয়োগ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: থাকবে আপনার চিকিৎসার সমস্ত তথ্য, আসছে ABHA কার্ড, কী সুবিধা মিলবে?
আইনজীবী আরও জানান যে, যেহেতু রাজ্যে আইনজীবী ছিল না, তাই যাতে কাজ বন্ধ না হয়, তার জন্যই আদালত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের নিশ্চিত করতে বলেছিল রাজ্যকে। হাইকোর্ট যদি হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে তালুকদার কমিটি বন্ধ হয়ে যাবে। তা ছাড়াও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কিছু অফিসার জেলা জজ পদ থেকে অবসর নিয়ে এখানে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আর আইনজীবী স্পষ্ট বলেছেন যে, রাজ্যে অবসরপ্রাপ্তদের সরাতে গিয়ে সব দিক না খতিয়ে দেখলে সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই হাইকোর্ট কাজ জারি রাখার নির্দেশ দিয়েছে।










