আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের কাছে স্টেশন শুধু যাতায়াতের জায়গা নয়, বরং প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই স্টেশনেই যদি জায়গার অভাবে ভিড় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, সংকীর্ণ প্ল্যাটফর্মে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে কিংবা পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব দেখা দেয়, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের উপর পড়ে। এই পরিস্থিতিতে হাবরা (Habra) স্টেশনকে আরও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়েছে রেল (Eastern Railway)। নতুন ফুট ওভারব্রিজ, প্ল্যাটফর্মে শেড, ওয়েটিং হল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মিনি মার্ট সব মিলিয়ে স্টেশনের পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্টেশন পর্যবেক্ষণ করলেন DRM
এই পরিকল্পনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে হাবরা স্টেশন পরিদর্শন করেন শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। বারাসত-বনগাঁ শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির পরিকাঠামো পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই তাঁর এই পরিদর্শন। স্টেশনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখেন তিনি।
হাবরা স্টেশনে যাত্রীদের অসম্ভব ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন ডিআরএম। বিশেষ করে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংকীর্ণ অংশের সমস্যাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। পাশাপাশি, যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দিতে প্ল্যাটফর্মে নতুন শেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্টেশনে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন ফুট ওভারব্রিজ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে রেল। নতুন ফুট ওভারব্রিজ তৈরি হলে স্টেশনের এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধা অনেকটাই বাড়বে।
ওয়েটিং হল, টয়লেট থেকে মিনি মার্ট, পরিকল্পনায় একাধিক সুবিধা
শুধু প্ল্যাটফর্মের সংস্কার নয়, যাত্রীদের অপেক্ষা করার জায়গা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার দিকেও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে নজর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ওয়েটিং হল এবং টয়লেট কমপ্লেক্স তৈরি। এর পাশাপাশি স্টেশনে মিনি মার্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন।
এই হকার উচ্ছেদের আবহে এই উদ্যোগ কার্যকর হলে একদিকে যেমন স্টেশনে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, অন্যদিকে যাত্রীরাও নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তবে মিনি মার্ট চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ব্যবসায়ীদের জন্য চুক্তির শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাবরা স্টেশনের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে তার আগেই, আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্টেশনে বেশ কিছু পরিবর্তন চোখে পড়বে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা।
আরও পড়ুন: বিশ্বের ঋণগ্রস্থ দেশগুলির তালিকায় ভারতের থেকে উন্নত পাকিস্তান, বাংলাদেশ! কারণ জানুন
যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং স্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কোন কোন কাজ আগে শুরু হয় এবং কত দ্রুত সেগুলি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়, এখন তার দিকেই নজর হাবরাবাসির। পরিকল্পনাগুলি সফল হলে হাবরার একাধিক স্তরের মানুষ নিঃসন্দেহে দারুণভাবে উপকৃত হবেন।










