অনন্যা সরকার, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের (Higher Secondary Third Semester) পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক সময়সূচি মেনে অনেক স্কুলই ইতিমধ্যে অ্যাডমিট কার্ড বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু সম্প্রতি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচনের কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বদল আনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষার দিন পিছিয়েছে। তাই স্কুলগুলোকে এখন নতুন করে অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) ছাপাতে ও বিতরণ করতে হচ্ছে। আর এতেই অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষের নাজেহাল অবস্থা। দ্বিতীয়বার অ্যাডমিট কার্ড ছাপানোর খরচ বহন করা এবং নতুন কার্ড সংগ্রহের জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে আবারও যোগাযোগ করা – এই দুটিই স্কুলগুলোর কাছে বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই একাধিক বিদ্যালয়ে অশিক্ষক কর্মীর (Non-teaching Staff) ঘাটতি রয়েছে, তাই এই বাড়তি প্রক্রিয়া সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পুনরায় অ্যাডমিট কার্ড ছাপিয়ে বিতরণের ক্ষেত্রে সমস্যায় স্কুলগুলি
২০২৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ও ৯ অক্টোবর এর ফলাফল ঘোষণা করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা এই তারিখগুলোতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের জন্য পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে দিতে হয়েছে। তৃতীয় সেমিস্টার শুরুর মাত্র ১১ দিন আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর এই সময়সূচি সংশোধন করা হয়। গণিত, বিজনেস ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স, বেসিক ম্যাথমেটিক্স ফর সোশ্যাল সায়েন্সেস, জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন, এগ্রিকালচার, ফারসি, সংস্কৃত এবং আরবি ভাষার পরীক্ষা ৫ অক্টোবর থেকে সরিয়ে ১২ অক্টোবর করা হয়েছে।
আবার, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, সমাজবিদ্যা, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স এবং ফিশারিজ় অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার – এই বিষয়গুলির পরীক্ষা আগামী ৬ অক্টোবরের বদলে ১৩ অক্টোবর হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং কস্টিং ও ট্যাক্সেশনের পরীক্ষা, যা ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল, তা নতুন রুটিন অনুযায়ী ১৪ অক্টোবর নেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে সময়সূচি বদলের ফলে অ্যাডমিট কার্ড ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিতরণ করতে গিয়ে তাই হিমশিম খাচ্ছে স্কুলগুলো।
আরও পড়ুনঃ আমেরিকাকে ছাপিয়ে যেতে চলেছে ভারতের মেট্রো, বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার সম্ভাবনা
স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির বক্তব্য, তারা এই মুহূর্তে সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইউনিক আপার আইডি’ (Unique APAAR ID) তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তার ওপর আবার কাঁধে চেপেছে নতুন অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করার কাজ, যা সামলাতে রীতিমত নাজেহাল অবস্থা তাদের। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে এবং অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত অশিক্ষক কর্মী না থাকায় সমস্যা আরও গুরুতর হয়েছে। সময়ের আগে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে তাই এখন উদ্বেগে স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেছেন যে, সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা মুখে বললেও, সামান্য একটি উপনির্বাচনের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর যেমন মানসিক চাপ বাড়ছে, তেমনই স্কুলগুলিকেও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তবে, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) সূত্রে জানা গেছে যে, প্রতিটি অ্যাডমিট কার্ড ছাপাতে মোটামুটি ৫০ পয়সা মতো খরচ হয়, এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে স্কুলগুলোর খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি জানাচ্ছে, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত পরিচালনা করা তাদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।










