অনন্যা সরকার, কলকাতা: গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে মশার (Mosquito) উপদ্রব বেড়ে যায়। মশার হাত থেকে বাঁচতে তখন নানা পন্থা অবলম্বন করতে হয়। শহর হোক বা গ্রাম – মশার জ্বালায় সবাই ব্যতিব্যস্ত। খেলাধুলো করতে গিয়ে ছোট বাচ্চারা মশার দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়। মশা তাড়ানোর জন্য ধূপ ও এই জাতীয় নানা অন্যান্য জিনিস পুড়িয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি করা হয়, যা শুধু মশার জন্যই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তবে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সহজ ও ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যা খুবই কার্যকরী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। এর জন্য সেরকমভাবে কিছুই করতে হবে না, শুধু লাগাতে হবে একটি গাছটি যা মশা তাড়াবে। নিশ্চয়ই ভাবছেন তো, যে কি সেই গাছ যা দিয়ে মশা তাড়ানো যায়? চলুন তাহলে এই বিশেষ মশা তাড়ানোর গাছটির সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
মারুয়া গাছ তাড়ায় মশা
মারুয়া গাছটি (Marjoram plant) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন তুলসী এবং বাবরি গাছ নামেও পরিচিত। তুলসী পরিবারের এই অনন্য উদ্ভিদটি প্রাকৃতিক মশা তাড়ানোর উপাদান হিসেবেও পরিচিত, কারণ মশার সহ্য করতে পারে না এর গন্ধ। এতে রয়েছে অসংখ্য ঔষধি গুণ, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, এই গাছটির পুদিনার মতো একটি গন্ধ রয়েছে, যা পোকামাকড় এবং মশা তাড়ায়।
তাই এই গাছটি যদি আপনি আপনার রান্নাঘরে বা উঠোনে লাগান, তাহলে মশা দূরে থাকবে এবং সেই সাথে অন্যান্য পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গের উপদ্রবও কমবে। মশা ও কীটপতঙ্গ দূর করার ক্ষমতার পাশাপাশি, এই গাছটি শিশুদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। মারুয়া গাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এতে এমন অনেক পুষ্টিবর্ধক উপাদান রয়েছে, যা ঘন ঘন সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়।
আরও পড়ুন: জানেন পায়ের পাতায় রসুন ঘষলেই মুখে স্বাদ পাওয়া যায়? রইল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
তবে শুধু শিশুদের জন্যই নয়, প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের জন্যও উপকারী এই গাছ। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার মতো বেশ কিছু গুণাগুণ রয়েছে এতে। এর পাতা চিবিয়ে খেলে মাড়ি সংক্রান্ত সমস্যা কমে। শিশুরা প্রায়ই পেটের কৃমিতে ভোগে। এই গাছের পাতার রস কৃমি নাশ করে। এছাড়াও, মারুয়া পাতার রস এবং পাতা চিবিয়ে খেলে মাইগ্রেন থেকেও আরাম পাওয়া যায়। মারুয়ার পাতা চা, স্যালাড, চাটনিতেও ব্যবহার করা হয়।










