এমন এক দেশ যা একদিনেই পায়ে হেঁটে পার করা যায়, জানেন কোথায় অবস্থিত?

Published:

Tuvalu

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভাবুন এমন একটি দেশ যেখানে সপ্তাহে মাত্র দুটো ফ্লাইট চলে, এমন একটি দেশ যা একদিনেই হেঁটে ভ্রমণ করা যায়, এমন একটি দেশ যা খুব শীঘ্রই হয়তো জলের তলায় বিলীন হয়ে যাবে। কী অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এমন দেশ পৃথিবীতে আছে নাকি? আছে। বিশ্বের মানচিত্রে অতিক্ষুদ্র বিন্দুর মতো জেগে রয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত টুভালু (Tuvalu)। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে কম জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচুতে না থাকায়, এটি মহাসাগরের মধ্যে একটি দীর্ঘ ভূখণ্ড হিসেবে অবস্থান করছে, যার ফলে দেশটি একটু একটু করে বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেকোনও সময় গিলে খেতে পারে সমুদ্র। তবে, এই দ্বীপরাষ্ট্রের অপরূপ সৌন্দর্য্য প্রত্যক্ষ করতে অনেক পর্যটক প্রায়ই হাজির হন এখানে। 

বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ টুভালু

টুভালু আয়তনে কলকাতার থেকে ৮ গুণ ছোট। ২৬ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশটি মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা যায়। এই দেশটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াইয়ের মাঝে অবস্থিত এবং এর অধিবাসীরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও হাসিখুশি বলে পরিচিত। যদিও পর্যটকরা এখানে খুব কমই আসেন, তবে যারা আসেন তারাই এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই দেশটি। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র ৪.৬ মিটার। তাই জলস্তর বাড়লে পালিয়ে বাঁচার মতো কোনও উচ্চভূমি অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। টুভালু সরকারের অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে রাজধানী ফুনাফুটির অর্ধেক সমুদ্রের জলে ডুবে যাবে। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ দেশটির ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ জলের তলায় হারিয়ে যেতে পারে। কিংবা একটা সুনামি এক রাতের মধ্যেই এটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: “দিন রাত ভারত ভারত করা বন্ধ করুন!” দেশবাসীকে কড়া বার্তা বাংলাদেশের মন্ত্রীর

আয়তনের দিক থেকে টুভালু বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম সার্বভৌম রাষ্ট্র। কেবল মোনাকো এবং নাউরু এর চেয়েও ছোট। টুভালুর জাতিসংঘের (United Nations) সদস্য হতে অনেক সময় লেগেছিল, কারণ বহু বছর ধরে এই দেশের পক্ষে প্রবেশমূল্য বহন করা সম্ভব ছিল না। তবে, যখন দেশগুলিকে প্রথম ইন্টারনেট ডোমেইনের নাম বরাদ্দ করা হয়, তখন টুভালু “.tv’” এক্সটেনশনটি পায়। দেশটি ২০০০ সালে এবং পুনরায় ২০১২ সালে তাদের ডোমেইনের জন্য ১২ বছর মেয়াদের ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশটি জাতিসংঘে যোগদান করে, বাইরের দ্বীপগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি কর্মসূচি চালু করে।

প্রশান্ত মহাসাগরের এই ডুবন্ত দ্বীপরাষ্ট্র টুভালু, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চরম বিপদের সম্মুখীন, যা এর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলেছে। টুভালুর ১১,০০০ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের জন্য জলবায়ু ভিসা বা Pacific Engagement Visa (Subclass 191)-এর আবেদন করেছে।

আরও Tuvalu