প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কলকাতা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction) ভাঙার তালিকা তৈরি হয়েছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে “অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে।” আর এবার শিলিগুড়ি (Siliguri) শহরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে উত্তরপ্রদেশ থেকে বুলডোজার ভাড়া করার হুঁশিয়ারি দিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নিজে থেকে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলুন, না হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে রাজু বিস্তা
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি শহরের একাধিক সমস্যা নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ কমিশনার, জেলাশাসক, দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। আর সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজু বিস্তা। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’ডজন জেসিবির অর্ডার দিয়েছি। মোট ২৪টি জেসিবি আসছে। এরপর শহরের যত অবৈধ নির্মাণ রয়েছে, সবকিছুর উপরই ধারাবাহিকভাবে জেসিবি চলবে। তাই সেক্ষেত্রে নিজেরা যদি বেআইনি নির্মাণগুলো না ভাঙে তাহলে প্রশাসন থেকে ভাঙা হবে।”
শিলিগুড়িকে মাদকমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ
জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। জোরকদমে চলছে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজও। তবে এই কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক কারবার বন্ধ করা নিয়েও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গতকাল বৈঠকে। শহরে যারা মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত, ইতিমধ্যেই তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে রয়েছে। শিলিগুড়িকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গুন্ডা ট্যাক্স আদায়, অবৈধ টোল প্লাজা, পাব ও বারগুলির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার কথা বলেছেন সাংসদ রাজু বিস্তা।
আরও পড়ুন: অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট, অবশেষে গড়িয়ার সেই ক্লক টাওয়ার গুঁড়িয়ে দিল সরকার
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা চলছে। কলকাতাতেও বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলেই বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল, আর তাতেই প্রশ্ন কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। তবে বিজেপি যে শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তারের কথায়, “এটাই পরিবর্তনের সরকার। এই সরকারের আমলে কোনও রকম অবৈধ কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।”










