তামান্না খুনে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার আরও ১, কালীগঞ্জ কাণ্ডে মোট গ্রেফতার ৫

Published:

Tamanna Death Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদল হতেই কালীগঞ্জের ছোট্ট তামান্না খুনের (Tamanna Death  Case) মামলায় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিধানসভায় কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পরেই কড়া অ্যাকশনে নামলো পুলিশ। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া বার্তা ও আশ্বাসের পরই গ্রেফতার হল ৫। যাঁদের মধ্যে একজনকে গুরুগ্রাম (Gurugram) থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। আজই তোলা হবে সেখানকার আদালতে। এরপর দ্রুত আনা হতে পারে রাজ্যে।

তদন্তের নজরে এবার তামান্না খুনের মামলা

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন মোলান্দি গ্রামে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। আর সেই সময়, সেই বিজয় মিছিল থেকেই এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি ও উস্কানিমূলক হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল শিশু তামান্না খাতুনের শরীর। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছিল। আর সেই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। কিন্তু এবার রাজনৈতিক পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ওই ঘটনার পুনরায় তদন্তে নামল পুলিশ।

গ্রেফতার ৫

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারই বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। ছোট্ট মেয়ের ‘বিচার’ চেয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন বাম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। তার পরই কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। গ্রেফতার হলেন দুই অভিযুক্ত। তমন্নার মায়ের কথায়, এতদিন ধরে ‘আসামি’গুলো চেখের সামনেই ঘুরছিল। পুলিশ কিচ্ছু করেনি। ধৃতদের নাম সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। মঙ্গলবার রাতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। এছাড়াও আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন ফকর সেখ, হাফিজুল সেখ এবং মিনারুল সেখ। এদের মধ্যে মিনারুল সেখ কিছুদিন ধরে হরিয়ানার গুরগাঁওতে আত্মগোপন করেছিল, আজই তাঁকে গুরগাঁও আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীর অণ্ডকোষ ছিঁড়ে পালাল তৃণমূল নেতা, ক্যানিংয়ে ভয়াবহ কাণ্ড

পুলিশ সূত্রে খবর খুব শীঘ্রই মিনারুল সেখকে রাজ্যে নিয়ে আসা হবে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও স্থানীয় এলাকা থেকে ধৃত ফকর ও হাফিজুলকে আজই জেলা আদালতে পেশ করা হবে। আগেই দুই অভিযুক্ত সাবির শেখ ও জিয়ারুল শেখকে অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। তামান্নার মায়ের কথায়, এতদিন ধরে ‘আসামি’গুলো চেখের সামনেই ঘুরছিল। পুলিশ কিচ্ছু করেনি। এবার এক এক করে সকলে ধরা পড়বে। নতুন করে আশার আলো দেখছে পরিবার।