তিনিই এঁকেছিলেন যাদবপুরের প্রতীক, ভেঙে দিল কারা? জানুন কে এই নন্দলাল বসু

Published:

Jadavpur University

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বুধবার, রাতভর তাণ্ডবের পরে বৃহস্পতিবারও তুলকালাম চলল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সামনে। বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা গেটের উপরে উঠে দাপাদাপি করছে, ডিম ছুঁড়ছে, জলের বোতল ছুঁড়ছে…রীতিমত লজ্জা ও অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে অপমানজনক বিষয় হল যাঁর শিল্পচেতনার স্পর্শে বাঙালি মনন সমৃদ্ধ হয়েছিল, সেই শিল্পগুরু নন্দলাল বসুর (Nandalal Bose) নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকও (Jadavpur University emblem) ভেঙে ফেলা হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক, ছাত্র ছাত্রী এবং প্রাক্তনীরা।

কে এই নন্দলাল বসু?

‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’-এর অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন নন্দলাল বসু, তিনি শান্তিনিকেতনের ‘কলা ভবন’-এর প্রবাদপ্রতীম অধ্যক্ষও ছিলেন বটে। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তার আগে এই প্রতিষ্ঠান ছিল জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অংশ। সেই সময় শান্তিনিকেতনের কলাভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এমব্লেমের নকশা তৈরি করেছিলেন। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থির করেছিলেন তাদের মূল মন্ত্র হবে- ‘জানার মাধ্যমেই বিকাশ’। এরপর নন্দলাল বসু সেই ভাবনা নিয়েই তৈরি করেন প্রতীক। পদ্মের পাপড়ির আকারের এই এমব্লেমের মধ্যে রয়েছে একটি প্রদীপ এবং তিনটি শিখা।

ক্ষুব্ধ অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ

এই প্রতীকে প্রদীপ প্রকাশ করছে জ্ঞানের আলো, ত্রি-শিখা বোঝাচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, আবেগ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সামগ্রিক বিকাশের বার্তা, এবং পদ্মের পাপড়ি হল চারুকলা ও সংস্কৃতির ধারক। কিন্তু আজ সেই গর্বের প্রতীক অসম্মানিত হয়েছে কিছু বিক্ষোভকারীদের আচরণে। এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ জানিয়েছেন, “জাতীয় গৌরব ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত যাদবপুরের এই এমব্লেমকে পা দিয়ে মাড়িয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারপর সেই ভাঙা অংশ অন্যদের দিকে ছুড়ে দেওয়া হল।” তিনি আরও বলেন, এই প্রতীককে পদদলিত করে যাদবপুরের বাইরের অসংখ্য মানুষের আবেগকেও আঘাত করা হয়েছে। তাই গোটা ঘটনায় সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতেই হাইকোর্টে যাচ্ছেন মহুয়া মৈত্র

বুধবারের এই সংঘর্ষ হামলার তীব্র প্রতিবাদে গতকাল, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট চত্বর। জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে গেটের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর সমর্থকেরা। গেটে তালা ঝুলছিল এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ সচেষ্ট হলেও গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। অন্য দিকে, গেটের ভেতরে লাল পতাকা হাতে অবস্থান নিয়েছিলেন বাম ছাত্রসংগঠনগুলি। দু’দিন ধরে চলা যাদবপুরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান পুলিশ আউট পোস্ট করতে হলে করা হবে। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি হবে। আচার্য, উচ্চশিক্ষা দপ্তরে রিপোর্টও পাঠাবেন।