প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরও বিপাকে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। জানা গিয়েছে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে কৃষ্ণনগর জেলা আদালত এবার তাঁর বিরুদ্ধে জারি করেছে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Mahua Moitra arrest warrant)। কিন্তু তাতে দমে যাননি মহুয়া, পাল্টা সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল সাংসদ। বৃহস্পতিবার মহুয়া মৈত্র পিটিআই-কে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে বিস্তারিত জানান।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি মহুয়ার বিরুদ্ধে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল তৃণমূলের লোকসভা সাংসদের বিরুদ্ধে। এবার গত বুধবার, কৃষ্ণনগরের থার্ড কোর্টে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহুয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আদালত উল্লেখ করেছিল যে, বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি হাজির হননি। এর থেকে স্পষ্ট যে তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে চলার বিষয়ে গাফিলতি করেছেন। তাই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের আর কোনও বিকল্প ছিল না। জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকর করার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
কী জানালেন মহুয়া?
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মহুয়া মৈত্র জানান যে, কৃষ্ণনগরের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সেই নির্দেশকেই হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন তিনি। মহুয়া মৈত্র PTI-কে জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ২২৮ ধারার অধীনে তাঁর করা অব্যাহতির আবেদনের নিষ্পত্তি না করেই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই ধারায় কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার আবেদন করেন।
দিল্লিতে থাকার কারণে দিতে পারেননি হাজিরা
হাজিরা প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্র জানান যে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম দু’টি হাজিরার তারিখ ৪ ও ১২ আগস্ট তাঁর পক্ষে হাজির হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, ওই দু’দিনই তিনি সংসদের অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন। এছাড়াও তৃতীয় সমনে তাঁকে ১৮ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর আগের দিনই অর্থাৎ ১৭ আগস্ট আইনজীবীরা আদালত বয়কট প্রত্যাহার করেছিলেন। এমনকি ১৮ আগস্ট তিনি দিল্লিতেই ছিলেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে হাজির হয়ে BNSS-এর ২২৮ ধারায় অব্যাহতির আবেদন জানান। কিন্তু আদালত তাঁকে পরের দিন, অর্থাৎ ১৯ অগাস্ট সকালে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই হল কাজ? অবশেষে এদের বকেয়া ডিএ মেটানো শুরু করল নবান্ন
হাইকোর্টে যাবেন মহুয়া
মহুয়া জানান, ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তাঁর পক্ষে পরের দিন এত কম সময়ের মধ্যে দিল্লি থেকে কৃষ্ণনগরে যাওয়া সম্ভব ছিল না তাই আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, কিন্তু সেই আবেদন বিবেচনা করার আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাই এবার তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যাবেন। উল্লেখ্য, চৈনা নন্দী-সহ পাঁচজন মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল। তাঁদের দাবি, তুলসি মালা নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করে তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানেন মহুয়া। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন। এখন দেখার এই মামলার জল কতদূর এগোয়।










