অনন্যা সরকার, হাওড়া: প্রতারণার অভিযোগ উঠল হাওড়া স্টেশনে (Howrah Station) আইআরসিটিসি (IRCTC) পরিচালিত ‘জন আহার’ রেস্তোরাঁর (Jan Ahaar Restaurant) সাব-লিজ নিয়ে। এই ঘটনায় রেস্তোরাঁর এক ম্যানেজার এবং রেল ক্যান্টিনে কর্মরত দুই কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। হাওড়া আদালতের নির্দেশে সরকারি রেল পুলিশ (GRP) একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, আইআরসিটিসি-র অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে এই সাব-লিজের ব্যবস্থা করার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল।
অননুমোদিতভাবে সাব-লিজ দেওয়ার অভিযোগ হাওড়া স্টেশনের রেস্তোরাঁয়
রেল পুলিশ জানিয়েছে যে, হাওড়ার শিবপুর এলাকার এক মহিলা হাওড়া স্টেশনের ‘জন আহার’ রেস্তোরাঁটির সাব-লিজ চাইছিলেন। তিনি জানতে পারেন, রেলের এক কর্মচারীকে প্রভাবিত করে এই লিজটি পাওয়া সম্ভব হতে পারে। ওই মহিলার ভাইয়ের এক পরিচিত ব্যক্তি রেল ক্যান্টিনে কাজ করতেন, তার সাথে যোগাযোগ করা হলে সেই ব্যক্তি সাব-লিজ পেতে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযোগকারিনী মহিলা ও তার ভাই শিয়ালদহ স্টেশনে জন আহার রেস্তোরাঁর ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রাথমিকভাবে, রেস্তোরাঁটি তাদের কাছে সাব-লিজ দেওয়া হবে বলে রাজি হন ম্যানেজার এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিও হয়।
ওই মহিলা ও তাঁর ভাই সাব-লিজ বাবদ ২ লক্ষেরও কিছু বেশি টাকা দিয়েছিলেন। রেলওয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং ট্যুরিজম কর্পোরেশনকে না জানিয়েই এই পুরো ব্যবস্থাটি করা হয়। সংস্থাটির অনুমতি না নিয়েই অভিযোগকারিণীকে শিয়ালদহের জন আহার আউটলেটটি চালাতে বলা হয়েছিল, তিনি অল্প সময়ের জন্য এটি চালানও। কিন্তু ব্যবসায় তেমন লাভ না হওয়ায়, আবার তা ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে, তাকে বলা হয়েছিল যে হাওড়া স্টেশনের জন আহার’ রেস্তোরাঁটি তাকে সাব-লিজ দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের মে মাস নাগাদ তাকে হাওড়া স্টেশনের রেস্তোরাঁয় তলব করা হয়, যেখানে তিনি ম্যানেজারের সাথে দেখা করেন।
আরও পড়ুন: ভাড়া বাড়ির বদলে স্থায়ী ভবন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রসঙ্গত, হাওড়া এবং শিয়ালদহ উভয় স্টেশনের জন আহার রেস্তোরাঁ দুটির মালিক একই ব্যক্তি। ওই মহিলাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে তাকে হাওড়া স্টেশনের রেস্তোরাঁটি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ করা হয় যে, সাব-লিজের জন্য তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ২.৫ লক্ষ টাকারও বেশি আদায় করা হয়। রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে টাকাপয়সার লেনদেন সম্পন্ন হয়। তা সত্ত্বেও, তিনি হাওড়া স্টেশনের জন আহার কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য সাব-লিজ পাননি। বারবার অনুরোধ করার পরও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
আরও পড়ুন: UNESCO-র নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজো নিয়ে দুর্নীতি! ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান ED-র
হাওড়া আদালতের নির্দেশে, হাওড়া জিআরপি সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলা দায়ের করেছে। এফআইআর-এ জন আহার কেন্দ্রের ম্যানেজার সহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে, জন আহার কেন্দ্রগুলো এভাবে সাব-লিজ দেওয়া যায় না, লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থার এমন কোনও অধিকার নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ কীভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে এই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তদের তলব করে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।










