UNESCO-র নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজো নিয়ে দুর্নীতি! ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান ED-র

Published:

ED Raids

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগ ব্রেকিং… পুজোর মুখে ফের সাতসকালে হানা দিল ED (ED Raids)। জানা গিয়েছে, UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ, মঙ্গলবার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দিয়েছে ইডির একাধিক দল (Durga Puja ED Raids) । এর মধ্যে রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়ি। এই মুহুর্তে প্রতিটি বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। তবে ইন্দ্রনীল সেন বাড়িতে আছেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের নাম করে দুর্নীতি

সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগে পুজো পরিক্রমার নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি করা হত বলে অভিযোগ উঠে এসেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ‘মাস আর্ট’ সংস্থার বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর অফিসিয়াল পার্টনার বলে দাবি করত। এমনকি ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের নাম করে বাজার থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এবার সেই ঘটনার তদন্তের জন্য ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED।

তদন্ত অভিযানে নামল ED

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার, দুর্গাপুজোর দুর্নীতির ঘটনায় সাতসকালে শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দেয় ইডির একাধিক দল। কসবার পাশাপাশি হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক-সহ কলকাতার মোট ১০ জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি শুরু করেছেন ইডির আধিকারিকেরা। এর মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি যেমন রয়েছে ED-র নজরে তেমনই হাইল্যান্ড পার্কে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর বাড়িও রয়েছে তালিকায়। অভিযোগ, কলকাতার প্রায় ২৪টি পুজোকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হত। বলা হত এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই দাবি মিথ্যা বলে অভিযোগকারী ইতিমধ্যেই বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন: একই বাড়িতে একের বেশি রান্নাঘর থাকলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনা? জানুন আপডেট

প্রসঙ্গত, আগেই এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু এই ঘটনায় যেহেতু দুর্নীতির অঙ্ক বিপুল তাই তদন্ত করতে ময়দানে নেমেছে ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থার নামে যদি টাকা তোলা হয়, তবে তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে টাকার লেনদেন হত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দিয়েছে তদন্তকারীরা। এখন দেখার কী কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

google button