ফোন, OTP ছাড়াই একই পরিবারের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ২১ হাজার, শোরগোল ব্যান্ডেলে

Published:

Cyber Fraud

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের সাইবার প্রতারণা (Cyber Fraud)! না এসেছিল কোনও ফোন। না চাওয়া হয়েছিল ওটিপি। এমনকি কোনও লিঙ্কেও ক্লিক করা হয়নি কিন্তু তবুও একই পরিবারের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আচমকা উধাও হয়ে গেল ২১ হাজার টাকা। এমন ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে ব্যান্ডেল (Bandel) এলাকায়। তড়িঘড়ি ঘটনার (Hooghly Cyber Crime) তদন্তে নেমেছে হুগলির গ্রামীণ পুলিশের সাইবার সেল।

একধাক্কায় উধাও ২১ হাজার টাকা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, হুগলির ব্যান্ডেল এলাকায় পলাশপুরের বাসিন্দা মিনতি দাস পুজোর আগে দোকানের কিছু কাজ করানোর জন্য হুগলির SBI ব্রাঞ্চে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাসবুক আপডেট করতে গিয়েই তিনি জানতে পারেন তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯০০০ টাকা গায়েব হতে গিয়েছে। এমনকি ব্যাঙ্কের তরফে এও জানানো হয় যে একাধিক লেনদেন হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। শুধু মিনতি দাসের অ্যাকাউন্ট নয়, তাঁর ছেলে দীনবন্ধু দাসের অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১২০০০ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। তাঁদের দাবি কাউকে ওটিপি দেওয়া হয়নি, কোনও অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও শেয়ার করা হয়নি, তাহলে কীভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে এত বিপুল টাকা গায়েব হল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে নামল পুলিশ

ঘটনার পর দেরি না করে তড়িঘড়ি মিনতি দেবী এবং তাঁর ছেলে দীনবন্ধু দাস হুগলির গ্রামীণ পুলিশের সাইবার সেল এবং মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও বিষয়টি জানান তিনি। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। এদিকে মুদি দোকান চালিয়ে সঞ্চয়ের টাকা হারানোর যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মিনতি দাস। আদেও সেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এই নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে ছেলে দীনবন্ধু দাস। কিছুদিন আগেই দুর্গাপুরের পানাগড় এলাকায় একই ঘটনা ঘটেছিল। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা।

আরও পড়ুন: UNESCO-র নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজো নিয়ে দুর্নীতি! ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান ED-র

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে চলতি মাসের ১ তারিখ কাঁকসা থানার অন্তর্গত পানাগড় গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার দে-র ফোনে হঠাৎ পরপর একাধিক মেসেজ আসতে শুরু করেছিল। আর সেই মেসেজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। দেখা যায়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধাপে ধাপে কেটে নেওয়া হয়েছে। এদিকে তাঁরও দাবি ছিল, তিনি কাউকে ওটিপি দেননি, কোনও অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও শেয়ার করেননি। এখন দেখার সাইবার সেল কতটা সফলতা অর্জন করে এই ঘটনার তদন্তে।

আরও Bandel Hooghly
google button