জয়ন্তীতে রাত্রিবাসে বাধা নয়, এক পাসেই ঘোরা যাবে একাধিক স্পটে

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পুজোয় উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? বাস বা ট্রেনের টিকিট কাটা হয়ে গেছে? তাহলে আপনার জন্য রইল জরুরি খবর। স্থানীয় বাসিন্দাদের লাগাতার বিক্ষোভ এবং পর্যটকদের হয়রানি কমাতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সুর বদলাল রাজ্য বন দফতর। জয়ন্তীতে (Jayanti Forest) রাত্রিবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল রাজ্য বন দফতর (Forest Department)।

জয়ন্তীর জঙ্গলে রাত্রিবাস নিয়ে নিয়ম শিথিল করল সরকার

এমনিতেই কর্মসংস্থানে কোপ পড়ার অভিযোগে বক্সার জয়ন্তী বনবস্তি-সহ ৩০টি গ্রামের বাসিন্দারা গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। এরপর সোমবার জয়ন্তীর বাসিন্দাদের অভিযোগ শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা নিজের দফতরে সাড়ে চার ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে কয়েকটি সমস্যার সমাধানসূত্র মিলেছে, পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে একাধিক আশ্বাস।

সুবিধা হবে পর্যটকদের

পর্যটকদের সুবিধার জন্য পারমিটের নিয়ম বদলানোর মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে বন দফতর। একটি এন্ট্রি পাসেই রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী ও বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন স্পটে ঘোরা যাবে, বারবার রাজাভাতখাওয়া সেন্টারে গিয়ে পারমিট কাটতে হবে না। জয়ন্তীর হোমস্টেতে পর্যটকদের থাকা ও রাত্রিবাস নিয়েও সুর নরম করেছে দফতর। বৈঠকে বনাধিকারিক ও গ্রামবাসীদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। জয়ন্তীতে ঘরবাড়ি মেরামতের সামগ্রী নিয়ে যেতেও আর বাধা দেওয়া হবে না। তবে বক্সার বনবস্তির পুনর্বাসন নিয়ে এ দিন আলোচনা হয়নি; দ্রুত সমস্যা সমাধানে আলোচনা করা হবে বলে বন দপ্তর জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনা, বিধায়কের বাড়ি ঘিরে যা কাণ্ড ঘটালেন মহিলারা

জয়ন্তীর পর্যটন ব্যবসায়ীদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল জয়ন্তী থেকে ফের জিপ সাফারি চালু এবং বন দফতরের টিকিট কাউন্টার সচল করা। তবে সোমবারের বৈঠকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়েনি বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সুভাষিণী চা-বাগানের মাঠে শীর্ষ বনাধিকারিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানেই জয়ন্তী থেকে জিপ সাফারি চালু ও টিকিট কাউন্টার সচলের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।