সৌভিক মুখার্জী, শিলিগুড়ি: পেশায় একজন সাংবাদিক। তবে সাংবাদিকতা যে শুধুমাত্র পরিবেশনের মাধ্যম নয়, তা যে সামাজিক দায়বদ্ধতার নামান্তর তা প্রমাণ করলেন সৌরভ রায় (Journalist Sourav Roy)। গতকাল ২ মে শনিবার ছিল তাঁর ৩২ তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের পাঁচটি চা বাগানের মেধাবী তথা দুঃস্থ পড়ুয়াদের ইংরেজি শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তাঁদের হাতে তুলে দিলেন অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং পঠনপাঠনের সামগ্রী। যা দেখে সাধুবাদ জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।
চা বাগানের অন্দরেই শিক্ষার প্রসারের চেষ্টা
শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ভোজনারায়ণ, গয়াগঙ্গা, কমলা, মতিধর এবং খাড়োভাঙা এই পাঁচটি চা বাগানের মোট ২৫ জন পড়ুয়াকে এদিন উপহার দিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল যুগে এখন স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট জলভাত। অনেক ক্ষেত্রে তা বিনোদনের মাধ্যম। তবে চা বাগানের যে সমস্ত এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে সেখানে ডিকশনারি হয়তো খুদেদের ভবিষ্যতের জন্য নতুন দরজা খুলতে পারে বলে ভেবেছেন এই সাংবাদিক।
জন্মদিনের দিন হয়তো তিনি এসি ঘরে বিলাসিতা করতে পারতেন। তবে সমাজসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিলেন তিনি। সাংবাদিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে দায়বদ্ধতার নজির সৌরভের। উল্লেখ না করলেই নয়, ভোজনারায়ণ চা বাগানের উত্তম মুর্মু এবং প্রিয়তম মুর্মু নামে দুই যুবকের হাতেও তিনি ডিকশনারি তুলে দিয়েছেন। তবে তাঁদের জীবনের গল্প চোখে জল আনবে। অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে কোনওক্রমে সংসার চলে তাঁদের। মা চা বাগানের একজন অস্থায়ী কর্মী। সন্তানদের হাতে পড়াশোনার সামগ্রী দেখে চোখে জল মায়ের। পাশাপাশি গয়াগঙ্গার গোল্ডি কুজুর বা অঙ্কুশ চিকবড়াইকদের মতো পড়ুয়াদের কাছে এই ডিকশনারি শুধুমাত্র বই নয়, বরং বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার রসদ।
সৌরভ রায়ের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি মহাকুমা পরিষদের সভাপতি রোমারেশমি এক্কা। তাঁর কথায়, সৌরভের এই ভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও চা বাগানের কথা তিনি ভুলে যাননি। অন্যদিকে মতিধর চা বাগানে উপস্থিত পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাহিদ হুসেন এবং আদিবাসী সমাজকর্মী রাজকুমার কাশ্যপের বক্তব্য, সৌরভের এই ধারাবাহিক সমাজসেবা সত্যিই অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন: ৫ মাস বাতিল বহু ট্রেন, তালিকা দিল দক্ষিণ পূর্ব রেল
পেশাদারিত্ব থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতা
না বললেই নয়, পেশায় সাংবাদিক সৌরভ রায় বর্তমানে প্রথম সারির এক সংবাদপত্রের ডিজিটাল প্রধান পদে কর্মরত। ১৯৯৪ সালে কোচবিহারে জন্ম তাঁর। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত সৌরভ। কর্মব্যস্ততার মাঝেও চা বাগানের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তাঁর এই প্রচেষ্টা, যা সত্যি অনুপ্রেরণা যোগায়।










