অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যে’ ক্ষুব্ধ কল্যাণ! চটে গিয়ে মামলা থেকে সরে এলেন আইনজীবী সাংসদ

Published:

Kalyan Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার বেসুরো হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)! মমতার সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘ঔদ্ধত্যে’ বিরক্ত হয়ে শেষে তাঁর মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। এমনকি এই মামলার সঙ্গে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষন্ন্য-সহ যে জুনিয়র আইনজীবীরা যুক্ত ছিলেন তাঁরা সকলেই সরে এসেছেন এই মামলা থেকে। পাশাপাশি কল্যাণ এও জানিয়ে দিলেন যে, ” মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”

অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যের’ অভিযোগ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজই সন্ধ্যে ৬ টায় সিআইডি-র কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ। বর্তমানে অভিষেক দিল্লিতে তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, বিকেল চারটে নাগাদ কলকাতায় ফিরে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে যাবেন তিনি। এমতাবস্থায় ফের দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যের’ অভিযোগ এনে রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ।

কী বলছেন কল্যাণ?

জানা গিয়েছে, আজ কলকাতা হাই কোর্টে অভিষেকের মামলায় আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু এদিন এই মামলায় অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অয়ন ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! গতকাল আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে CID-র যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম। অভিষেকের মামলাটা কোনও কারণে কাল কোর্ট শোনেনি। আমরা বিচারপতি কৌশিক চন্দকে বলি, এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। কিন্তু কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে।”

আরও পড়ুন: হরমুজের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় প্রাণ গেল ৩ ভারতীয় নাবিকের

ক্ষুব্ধ স্বরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, “আমি বলে দিয়েছি অভিষেকের সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয়তো আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।” যদিও এর আগে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য অভিষেকের নীতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন একাধিক নেতা। যদিও দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।