অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের ট্রলার ডুবির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জন মৎস্যজীবির। আজ মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও তার পাশাপাশি চাকরি ও ভাতারও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এদিন অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।
রামনগরের মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
দিন কয়েক আগে পূর্ব মেদিনীপুরের শংকরপুর বন্দর থেকে ‘জয় মা কালী’ নামের একটি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মৎস্যজীবী সমেত নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজ করার পর উপকূলরক্ষা বাহিনী ও বনবিভাগের যৌথ প্রয়াসে বকখালির কাছে ডুবন্ত ট্রলারটির খোঁজ মেলে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একাধিক মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁরা মূলত হাওড়া, চাকদা, কল্যাণী ও পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে দুর্ঘটনায় মৃত মৎস্যজীবীদের আর্থিক সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। আজ রামনগরের বিডিও অফিস থেকে তিনি নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, নিখোঁজ আরও ৫
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অর্থ দিয়ে হয় না, তবু সরকার পরিবারগুলির পাশে থাকার জন্য সব রকম ভাবে চেষ্টা করছে। আপনজনকে হারিয়ে ওই পরিবারগুলির অনেকেই সমুদ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন, তাই তাঁদের কথা ভেবে পরিবারের একজনকে হোম গার্ডে অথবা সিভিক ভলেন্টিয়ার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া শ্যামপুর, চাকদা ও কল্যাণীর যেসমস্ত মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়, তাদের পরিবারের হাতেও এদিন ভার্চুয়ালি ক্ষতিপূরণের টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: গুন্ডা দমন আইনেই ব্যবস্থা হবে!; সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের নিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, যারা অকাল বৈধব্যের শিকার হলেন, তাদের মধ্যে যারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন বা পাননি, তাদের সবাইকেই বিধবা ভাতার ১,৫০০ টাকার বদলে যেন অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা করেই দেওয়া হয়, তার নির্দেশ বিডিওকে (BDO) দিয়েছেন। আর পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার জন্য ‘মিশন বাৎসল্য প্রকল্পের’ অধীনে ১৮ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা করে স্কলারশিপ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই সুবিধা যাতে পরিবারগুলোর কাছে ঠিকভাবে পৌঁছে যায়, তা দেখবেন এলাকার বিধায়ক।










