আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বৃক্ষের পরিচয় যেমন ফলে, তেমনি কলকাতার (Kolkata) পরিচয় তার খাবারে। কখনও রসগোল্লা, কখনও বিরিয়ানি, কলকাতার নাম নিলে কমবেশি সকল খাদ্য রসিক মানুষদেরই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জিভে জল আনা এইসব পদ। তবে পুজোর আগে এই সাধের জায়গাতেই পড়তে চলেছে কোপ। শহরের জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় খেতে পুজোর সময় ভিড় জমান কলকাতাসহ বাইরে থেকে আসা মানুষজন। কিন্তু সেই খাবারের পিছনের ছবিটা কতটা পরিষ্কার, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। পুজোর আগে গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর। ১৭০টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু জায়গায় অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতির দেখা মেলে। কোথাও রান্নার জায়গা অবিশ্বাস্য রকমের অপরিষ্কার, কোথাও খাবার রাখার পরিবেশ ভীষণ রকমের অস্বাস্থ্যকর। উদ্ধার হয়েছে পচা খাবার, ছত্রাক ধরা খাদ্যসামগ্রী এবং নিম্নমানের মাংস। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় টন খাবার নষ্ট করতে হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
বাদ গেল না নামী রেস্তরাঁও, কোথায় গলদ ধরা পড়ল?
অভিযানের তালিকায় শুধু ছোট খাবারের দোকান নয়, শহরের বেশ কিছু নামী দামী পরিচিত রেস্তরাঁও রয়েছে। রিপন স্ট্রিটের করিমস, ধর্মতলার নিজামস, বাইপাসের শিমলা বিরিয়ানি, পার্ক স্ট্রিটের তুং ফং ও মোক্যাম্বো, ট্যাংরার বিগ বস-সহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এই প্রত্যেকটি জায়গাতেই অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অপরিচ্ছন্ন উপকরণ খুঁজে পাওয়া যায়। একইসঙ্গে গড়িয়া, ডেকার্স লেন এবং বারাসতের একটি মলের ফুড প্লাজাতেও অনেকক্ষণ তল্লাশি চলে। কয়েকটি মিষ্টির দোকান ও পনিরের দোকান থেকেও নিম্নমানের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৪০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের নজরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটি হল, রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গার খারাপ অবস্থা। অনেক ক্ষেত্রেই পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডের কথায়, অভিযানে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে অপরিচ্ছন্নতা এবং খাবারে ছত্রাকের উপস্থিতি। রান্নায় ব্যবহৃত তেল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে তেল কয়েকবার ব্যবহারের পর বদলে ফেলার কথা, সেটিই বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভার দাবি, এমন পরিবেশে তৈরি খাবার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: মা পালিয়ে গেলে মৃত্যু হয় বাবার, বৃদ্ধ ঠাকুমাকে নিয়ে অভাবে দিন কাটাচ্ছে ছোট্ট প্রিয়স্মিতা
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে এখনই চিরতরে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তরাঁগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গা পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে ফের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, পুজোর আগেও এই ধরনের অভিযান চলবে। অর্থাৎ উৎসবের মরসুমে শহরের মানুষ যে খাবার খাচ্ছেন, তা কতটা নিরাপদ, নজরদারির মাধ্যমে সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা।









