“নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ চাই” বেআইনি টোটো রুখতে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Illegal Toto Ban

অনন্যা সরকার, কলকাতা: অবৈধ টোটো (Illegal Toto) ও ই-রিকশার (E-Rickshaw) দৌরাত্ম্য কমাতে শুধু নির্দেশিকা জারি করে দায়িত্ব গা থেকে ঝেড়ে ফেললে চলবে না, মাঠে নেমে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে রাজ্য প্রশাসনকে কড়া র্নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার নদিয়ার মায়াপুরে অবৈধ টোটোর উপদ্রব এবং তার ফলে সৃষ্ট যানজট সম্পর্কিত জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের মুখ্য সচিবের দাখিল করা রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নিয়ম শুধু কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না, প্রশাসনকে সেই নিয়ম কড়াভাবে প্রয়োগও করতে হবে, নাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

টোটো নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসনকে আরও কড়া হওয়ার নির্দেশ

মামলার শুনানির সময় কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ ব্যানার্জীকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করছে যে, শুধু মুখ্য সচিবের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বা কাগজে-কলমে নিয়ম বানিয়ে কিছুই হবে না, এই করে বাস্তবে অবৈধ টোটো এবং ই-রিকশার চলাচল বন্ধ করা যায়নি। মামলাকারীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, নবদ্বীপের মায়াপুরে ইসকন মন্দিরের সংলগ্ন ধুবুলিয়া-মায়াপুর রোডে হাজার হাজার লাইসেন্সবিহীন টোটোর অবাধ চলাচলের কারণে প্রতিদিন এমনই যানজট তৈরি হচ্ছে যে, অ্যাম্বুলেন্স চলাচল সহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হাইকোর্টের আগের আদেশের ভিত্তিতে গত ৭ আগস্ট রাজ্যের মুখ্য সচিব একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেন। এর মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে ই-রিকশার চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। তবে, আদালতে দাখিল করা সরকারি তথ্য থেকেই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য  উঠে এসেছে। জানা গেছে শুধুমাত্র নদিয়া জেলাতেই ১০,৮০০-র বেশি টোটো চলাচল করলেও, সেগুলোর মধ্যে মাত্র ৪,৫০০টির লাইসেন্স রয়েছে। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক বেআইনি টোটো এখনও রাস্তায় নামছে।

আরও পড়ুন: এখনই শিক্ষক নিয়োগ নয়! রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন মন্তব্য করে যে, এই ছবিটি শুধু নদিয়ার নয় বরং সমগ্র রাজ্যের। এরপর পরিবহন বিভাগের নদিয়া জেলা শাখা, মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, নদিয়ার পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানার ওসিকে অবিলম্বে সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। প্রথমেই, বৈধ ও অবৈধ টোটো শনাক্ত করে লাইসেন্সবিহীন গাড়িগুলির চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, গত ৭ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলির বিষয়ে আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যকে।