এখনই শিক্ষক নিয়োগ নয়! রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগ এবার বড় আপডেট দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । জানা গিয়েছে, শীর্ষ আদালত অসম সরকার (Government Of Assam) এবং রাজ্যের শিক্ষা বিভাগগুলিকে প্রাদেশিকীকরণ প্রকল্পের অধীনে স্কুল ও কলেজগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ (Teacher Recruitment) বা অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দিয়েছে। আর এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা মাত্রই খুশির জোয়ার দেখা গেল যোগ্যদের মধ্যে।

মামলাকারীদের জনস্বার্থ মামলা দায়ের

জানা গিয়েছে, আবেদনকারী রাজেশ চৌহান ও মাধব মুকুন্দ পূজারী অসম সরকারের প্রাদেশিকীকরণ প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল। আর সেই মামলায় এই যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্প নাকি একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই স্থায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা বাকিদের কাছে অনৈতিক। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুরু হয়েছিল। আর সেখানেই বড় রায় দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।

বিশেষ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্ট অসম সরকারকে আজ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে অসম সরকারকে প্রাদেশিকীকরণ প্রকল্পের অধীনে স্কুল ও কলেজে আর নতুন করে কোনো শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। মূলত অসম সরকার শিক্ষক এবং উদ্যোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের প্রাদেশিকীকরণের প্রকল্পের অধীনে, কর্মচারীদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও গ্র্যাচুইটি, পেনশন এবং ছুটি নগদায়নের দায়ভার গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এতে যোগ্যতার অভাব দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ সরকার এমন অনেক ব্যক্তিকে স্থায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। এছাড়াও এভাবে অযোগ্যদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: “সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার” GTA দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, দুর্যোগ মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি মঞ্জুর

সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিষয়টির পরবর্তী বিবেচনা না হওয়া পর্যন্ত ‘শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন’, ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ আইন, ১৯৯৩’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৫৬’-সহ প্রযোজ্য বিধিবদ্ধ কাঠামোর অধীনে কোনো স্কুল বা কলেজে কোনো শিক্ষক নিয়োগ বা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আর এই নির্দেশ নিয়ে রীতিমত ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।