আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ব্যাংক কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে সরকার। বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবারের পাশাপাশি প্রতি রবিবার ব্যাংক (Bank) বন্ধ থাকে। অর্থাৎ সাধারণভাবে মাসে ছ’দিন মতো ছুটি পান ব্যাংকের কর্মীরা। প্রতি শনিবার ও রবিবার দুইদিনই ছুটির ব্যবস্থা চালু করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে ব্যাংক কর্মীদের সংগঠনগুলি। সূত্রের খবর, এই দাবি নিয়ে কেন্দ্রের তরফে কয়েকটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সপ্তাহান্তে টানা দু’দিন ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে ব্যাংক কর্মীদের।
বাড়তে পারে ব্যাংক খোলার সময়
সপ্তাহে কাজের দিন কমলে স্বাভাবিকভাবেই উপভোক্তাদের সমস্যায় পড়তে হবে। তাই গ্রাহকদের পরিষেবায় যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখছে রাজ্য সরকার। সেই কারণে ব্যাংকের দৈনিক কাজের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় শাখার কাজ একাধিক শিফটে ভাগ করা হতে পারে। একটি শিফট ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত চলার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় শিফট দুপুর ২টো থেকে রাত ১০টা অথবা দুপুর ৩টে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর বিকল্প নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। কর্মীদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যাতে কর্মীদের অতিরিক্ত সময় ধরে একটানা কাজ করতে না হয়।
চাকরিজীবীদের জন্য বাড়বে সুবিধা
এই পরিবর্তন কার্যকর হলে সবচেয়ে সুবিধা পেতে পারেন সেই সব গ্রাহক, যাঁরা সপ্তাহের পাঁচ দিন অফিস করেন। বর্তমানে কর্মব্যস্ততার কারণে কাজ সামলে, ব্যাংকে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়া অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সময়সূচি চালু হলে অফিসে যাওয়ার আগে সকালবেলায় কিংবা কাজ শেষে সন্ধ্যা-রাতের দিকে ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। ফলে KYC সংক্রান্ত কাজ, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া কিংবা বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের মতো কাজের জন্য সময় বের করা তুলনামূলক সহজ হবে।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে টাকা ঢোকার আগেই বাতিল অন্নপূর্ণা যোজনার ১৭ লক্ষ আবেদন, তালিকায় আপনিও?
এখনও নেওয়া হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার বা রিজার্ভ ব্যাংকের তরফেও এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তাই পাঁচ দিনের কাজের সপ্তাহ কবে থেকে কার্যকর হবে বা নতুন সময়সূচি ঠিক কীভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।









