২০,৭০০ কোটি খরচে চালু হল ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর

Published:

Dedicated Freight Corridor

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের মালবাহী ট্রেনগুলি পেল ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ রেল নেটওয়ার্ক (Dedicated Freight Corridor)। এর মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য দ্রুত এবং আরও বেশি ধারণক্ষমতায় পরিবহন করা সম্ভব হবে। এই নেটওয়ার্কটি দুটি করিডোর নিয়ে গঠিত – একটি ১,৩৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর, যা পাঞ্জাবের লুধিয়ানা থেকে বিহারের সোননগর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং অপরটি হল উত্তর প্রদেশের দাদরি থেকে মহারাষ্ট্রের জওহরলাল নেহেরু পোর্ট টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত ১,৫০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর।

চালু হল পৃথক মালবাহী নেটওয়ার্ক 

দক্ষিণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সাম্প্রতিক এক্স পোস্টে জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর (DFC) নেটওয়ার্কটি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। এর মধ্যে পূর্ব করিডোরটি ১,৩৩৭ কিলোমিটার ও পশ্চিম করিডোরটি ১,৫০৬ কিলোমিটার লাইন জুড়ে বিস্তৃত। এটির নির্মাণে খরচ হয়েছে ২০,৭০০ কোটিরও বেশি টাকা। 

এই নেটওয়ার্কটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। মূলত রেলপথে যানজট ও ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষতার সাথে মাল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাউদার্ন রেলওয়ে এই বিশেষায়িত মালবাহী পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার পিছনে কারণ হিসেবে রেল ট্র্যাকে যানজট, মাল চলাচলে বিলম্ব, সীমিত শিল্প সক্ষমতা ও দীর্ঘ পরিবহন সময়ের – মতো বিষয়গুলিকে তুলে ধরেছে। তবে এখন ডিএফসি নেটওয়ার্ক মাল পরিবহনের জন্য একটি বিশেষায়িত রেল পরিকাঠামো প্রদান করছে, যার ফলে প্রচলিত রেল নেটওয়ার্কের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করেই পণ্য পরিবহন করা যায়।

আরও পড়ুন: আর অপেক্ষা নয়! এই মাস থেকে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোরগুলো বিশেষভাবে পণ্য পরিবহনের জন্যই নির্মিত। এই পরিকাঠামোর সাহায্য কম ট্রিপে অধিক পরিমাণে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি এতে দীর্ঘ ট্রেন এবং ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার পরিচালনা করার ক্ষমতাও রয়েছে, যা বহনযোগ্য পণ্যের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং, এর মূল লক্ষ্য শুধুই রেললাইন যুক্ত করা নয়, বরং আরও বড় পরিসরে পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী উপযুক্ত পরিকাঠামো প্রদান করা।

ডেডিকেটেড ট্র্যাকগুলি মালবাহী ট্রেনগুলিকে আরও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে এবং দ্রুততার সাথে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই করিডোরগুলো ভারতের সাপ্লাই চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ রেল জানিয়েছে, ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ডেডিকেটেড মালবাহী নেটওয়ার্কটি দ্রুতগতিতে অধিক পরিমাণে পণ্য পরিবহন করে ও সেইসাথে ভারতজুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র, বাজার ও বন্দরগুলোকে সংযুক্ত করে।

আরও পড়ুন: সফর হবে আরও আরামদায়ক, আসানসোল-বারাণসী ট্রেনে বড় পরিবর্তন আনল রেল

জানিয়ে রাখি, পণ্যবাহী ট্রেনের দ্রুত চলাচল লজিস্টিকস সিস্টেমের ওপর একটি বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএফসি নেটওয়ার্কের প্রধান সুবিধাগুলি হল উন্নত লজিস্টিকস ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন। এই ডেডিকেটেড লক্ষ্য হল কার্গোর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং একই সাথে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও টেকসইভাবে এগিয়ে চলাকে সমর্থন করা। এককথায়, এই দুটি করিডোর মালবাহী ট্রেনগুলোকে ডেডিকেটেড ট্র্যাক, বৃহত্তর ধারণক্ষমতা এবং পণ্য পরিবহনের জন্য নির্মিত পরিকাঠামো প্রদান করে।