তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলায় সাসপেন্ড! রামকৃষ্ণ কয়ালকে চাকরিতে ফেরাল পুলিশ? জানুন সত্যিটা

Published:

Kolkata Police

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কিছুদিন আগে রামকৃষ্ণ কয়াল নামে কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তা (Viral Video) প্রকাশ করেছিল। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুসলিমদের একহাত নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন। এমনকি তিনি ভিডিওতে জানান যে, তৃণমূল জিতে যাওয়া মানে মুসলিমদের জিতে যাওয়া। জিহাদী শক্তির জিতে যাওয়া। জানা যায়, তাঁর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) তরফ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে রাজ্যের ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় হারিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। সেই কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি পোস্ট। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, সাসপেন্ড হওয়া ওই কলকাতা পুলিশের কনস্টেবলকে নাকি আবারও চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁকে কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি করে সরাসরি সাব-ইন্সপেক্টর করা হয়েছে। এ নিয়েই এবার সরব হল কলকাতা পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তি জারি কলকাতা পুলিশ

আজ কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই দাবির স্ক্রিনশট নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছে, এবং তারা সেটিকে ফেক বলেই দাবি করেছে। তারা স্পষ্ট লিখেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা পুলিশের কর্মীদের বদলি এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর যে সমস্ত তালিকা বা পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে তার কোনও সত্যতা নেই। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা আর ভুয়ো। কলকাতা পুলিশ এই ধরনের অপপ্রচারের উপর বিশেষ নজর রাখছে আর আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে। নাগরিকদের প্রতি একান্তই অনুরোধ, তাঁরা যেন যাচাইহীন তথ্য শেয়ার না করে। আর শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের উপরে নির্ভর করে।

আরও পড়ুন: বাংলায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে Google, প্রস্তাব পাঠাল কেন্দ্র

বলাবাহুল্য, ওই পুলিশ কনস্টেবল তৃণমূল কংগ্রেসকে এক হাত নিয়েই ভিডিওটি বানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর ভিডিওতে ইসলাম ধর্মকে জিহাদী বলে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, ইসলামদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী একজন মুসলিম বিধর্মী বা অন্য কোনও ধর্মের ব্যক্তিকে নির্যাতন করতে পারবে, আর এলাকা ছাড়া করে দিতে পারবে। এমনকি যেখানে দেখবে সেখানে অত্যাচার করতে পারবে এরকম নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। যদিও ওই ভিডিওর কোনও সত্যতা যাচাই করা হয়নি আমাদের তরফ থেকে। তবে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল, এবং তাঁকেই আবার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল, যা ভুয়ো বলেই উড়িয়ে দেওয়া হল।