বেপাত্তা ফলতার ‘পুষ্পা’, ফাঁকা ময়দানে গোল দেবে বিজেপি! আশা শেষ তৃণমূলের

Published:

Falta

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেপাত্তা ফলতার (Falta) ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। যে অজয় পাল শর্মাকে কটাক্ষ করে একদিন তিনি বলেছিলেন, ‘যেই সিংহম আসুক না কেন, পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’, সেই এখন নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কলকাতায় আত্মগোপন করেছেন। কার্যত পুননির্বাচনের জন্য বুথ এজেন্ট বসাতেই ভয় পাচ্ছে তৃণমূলের কর্মীরা। সূত্রের খবর, ফল ঘোষণার পরই পুষ্পার দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে বাড়িঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

বেপাত্তা ফলতার ‘পুষ্পা’

২০১১ তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর থেকেই জাহাঙ্গীর খানের একছাত্র অধিপত্য ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্রে। বিরোধীরা মুখ খুলতে পারত না তাঁর দাপটে। অভিযোগ ছিল, ভোটারদেরকে ভয় দেখানো হতো। এমনকি জোর করে তৃণমূলে ভোট দিতে বাধ্য করানো হতো। তবে এবার নির্বাচনের আগে কমিশনের তরফ থেকে উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ নামে পরিচিত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে জাহাঙ্গীরের ডেরায় পাঠানো হয় বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে। এমতাবস্থায় জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন। পাল্টা নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে পরিচয় দিয়ে হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীর খানের। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর খোঁজ মিলছে না জনৈক পুষ্পার।

বলাবাহুল্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ছিল ফলতায়। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগে ফের পুননির্বাচনের ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, ইভিএম-এ বিজেপির বোতামে টেপ ও আতর লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আর ভোটারদেরকে জোরপূর্বক তৃণমূলে ভোট দেওয়াতে বাধ্য করা হচ্ছিল। অভিযোগ তোলেন এলাকার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশ পন্ডা। পরে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় যে, আগামী ২১ মে এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে পুননির্বাচন হবে এবং ২৪ মে ফল প্রকাশের দিনক্ষণ ধার্য করা হয়।

আরও পড়ুন: ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ ঘোষণা, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ থালাপতি বিজয়ের

তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তৃণমূলের কর্মীদের কপালে। কারণ, এমনিতেই রাজ্যের ভার তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির হাতে চলে গিয়েছে। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী এখন প্রাণের ভয়ে ঘরছাড়া। স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, “ভোট করানোর জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় আর কেউ ফিরতে চাইছে না। অধিকাংশ বুথে এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার যখন হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে তাহলে এই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেই বা আর কী হবে? নেতা-নেত্রীরা পুননির্বাচনের বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না।”