স্থানীয় ইলিশের আকাল, দামও চড়া! অগত্যা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে এখানকার রুপোলী শস্য

Published:

Ilish Imported from Myanmar

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সারা রাজ্যজুড়ে ঝমঝমিয়ে নেমেছে বর্ষা। বৃষ্টির দিনে জমিয়ে খিচুড়ি আর সাথে গরম গরম ইলিশ (Ilish) মাছ ভাজা হলে বাঙালির আর কি চাই! বাজারে বাজারে ইলিশের (Hilsa) চাহিদা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ইলিশপ্রেমীদের রসনাতৃপ্তির জন্য মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পাড়ি দিলেও, এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না। স্থানীয় ইলিশের আকাল দেখা দেওয়াই মাছ ব্যবসায়ীরা ঝুঁকেছেন মায়ানমার ও গুজরাটের ভারুচের নর্মদা নদীর ইলিশের দিকে। বাজার ছেয়ে গিয়েছে এইসব মাছে। দামে কম হলেও স্থানীয় ইলিশের সাথে এগুলির স্বাদে পার্থক্য বিস্তর। 

মায়ানমার আর গুজরাট থেকে রাজ্যে আসছে ইলিশ

ডায়মন্ড হারবার, হুগলি নদীর তীর, হলদিয়ার মাখনবাবুর বাজার ও কুকড়াহাটি অঞ্চলে সাধারণত স্থানীয় ইলিশ ওঠে। বড় ইলিশ এবারে খুব কমই বাজারে এসেছে, তাই দাম চড়া। প্রায় ১,৫০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই মাছ। দিঘায় যত ট্রলার মাছ ধরতে নেমেছে, সেই তুলনায় মাছের যোগান কম। তাই বাধ্য হয়েই ইলিশ আমদানি করছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। 

এক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন, আগে প্রচুর বড় ইলিশ জালে উঠতো, এখন সংখ্যায় কমে গেছে। তাই ব্যবসায়ীরা বড় ইলিশ কিনে হিমঘরে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। হলদিয়ার মাছের বাজারের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীর কথায়, ভেনামেই চিংড়ি রফতানি বন্ধ রয়েছে, তাই ওই জায়গায় ইলিশের সংরক্ষণ চলেছে হিমঘরগুলোতে। বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটে ভরে পাঠাচ্ছে ইলিশ মাছ। 

ইলিশের আশায় সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছে বহু ট্রলার। দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস জানিয়েছেন, প্রায় ১,৫০০-এর মতো ট্রলার ইলিশ ধরার জন্য সমুদ্রে গেছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের কাজে বাধা দিয়েছে, অনেকেই ফিরে আসছে। তাই দিঘায় এখন ভাল ইলিশের আকাল পড়েছে।

এদিকে, বাজার ছেয়ে গেছে মায়ানমার ও গুজরাটের ইলিশে। ফলে স্বাদে আপস করতেই হচ্ছে বাঙালিকে। ইলিশ বিশারদরা বলছেন, এই দুই জায়গার ইলিশ স্বাদের নিরিখে হুগলি-গঙ্গা-পদ্মার তুলনায় অনেকটাই নীচে রয়েছে। ক্রেতাদের বক্তব্য, এখন বড় ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। আর স্থানীয় ইলিশ তো সেভাবে মিলছেই না। যে মাছ আসছে, তার গুণমান ভালো নয়। 

আরও পড়ুনঃ দিঘার অদূরেই রয়েছে একদম অচেনা ও অফবিট এক জলপ্রপাত, যাবেন নাকি এই স্বর্গে?

স্থানীয় ইলিশ না মেলার কারণ হিসেবে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, ছোট নৌকার মৎস্যজীবীরা খোলা বাজারে ইলিশ বিক্রি করতো আগে, কিন্তু এখন সেইসব মাছ চলে যাচ্ছে বড় ব্যবসায়ীদের হাতে। এখন কোথাও কোথাও এক কেজি ইলিশের দাম ২,০০০ টাকা ছুঁয়েছে। তাও বাজারে এলে পড়তে পারছে না। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় ইলিশের জোগান কম থাকায় মায়ানমারের ইলিশকে বাংলাদেশ বা পদ্মার বলে চালাচ্ছেন কিছু অসাধু বিক্রেতা। কিন্তু স্বাদে সে মাছ ধারে কাছেও নেই। 

আরও Gujarat Ilish Myanmar
📱 এখনই ইন্সটল করুন