অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্য সরকার সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী পাঠক্রম (School Syllabus) তৈরির উদ্দেশ্যে গঠন করেছে সিলেবাস কমিটি (Syllabus Committee)। আজ, মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে সদ্যগঠিত কার্যনির্বাহী দলটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ (Dipak Burman) জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলি আপাতত বহাল রেখে ‘রিভিউ’ বা পর্যালোচনার কাজ করবে কমিটি। তবে ২০২৮ সালের পাঠক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেবাস পরিবর্তন নিয়ে বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
মঙ্গলবারের এই বৈঠকে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী। অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই সিলেবাস কমিটির বৈঠকে অংশ নেন শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। এছাড়া তথাগত রায়ের মতো বর্ষীয়ান ব্যক্তিরাও আমন্ত্রিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রয়াত বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল ডিওয়াই পাতিল, শোকস্তব্ধ গোটা দেশ!
বৈঠকের পর স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সময় কম তাই, ২০২৭ সালের পাঠ্যসূচিতে কোনও বদল আসছে না। তবে ২০২৮ সালের নতুন সিলেবাসের খসড়া সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পরই তা প্রকাশ্যে আনা হবে এবং এনিয়ে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছাত্র সংগঠনের কাছে মতামত চাওয়া হবে। সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা বা ‘পাস-ফেল’ প্রথা ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP)-র নির্দেশিকা মেনে ২০২৮ সালের নতুন পাঠ্যক্রমেই স্থির করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী বছর ২ জানুয়ারি তারিখে ‘বই দিবস’-এর আগে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন কিংবা বেচারাম মান্নার ইতিহাসের মতো সাম্প্রতিক অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাবলী থাকার প্রসঙ্গে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন পাঠ্যক্রমে রাজনীতি সম্পর্কিত কিছু থাকবে না, বরং বিজ্ঞানমনস্কতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। এছাড়াও, ‘রামধনু’ শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে দীপক বর্মণ বলেন, যদি সিলেবাস কমিটির মনে হয় বর্ণচ্ছটা বোঝাতে ‘রামধনু’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত, তবে সেটাই পাঠক্রমে থাকবে। কমিটির ওপর কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার যোজনার টাকা নিয়ে সমস্যার সমাধান! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন বৈঠকে আমন্ত্রিত হিসেবে তথাগত রায়ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন তিনি জানান পাঠ্যপুস্তক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক রাখা উচিত এবং সেখানে সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো বিষয় না রাখাই উচিত। তার বদলে আগের সরকারের আমলে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কিংবা যে সমস্ত অরাজনৈতিক মনীষীদের একপ্রকার উপেক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেবাস কমিটিকে।










