অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাথে বৈঠক সারলেন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা। উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মোট ১৯ জন সাংসদ। প্রায় এক ঘন্টা ধরে চলা এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এনপিসিআই-এর সাংসদদের বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে রাজ্যের কোনায় কোনায়। এই প্রসঙ্গে আরও একবার অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) কথাও ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত মহিলারা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তাঁদের জন্য আবারও নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে সরকার। এদিন এনসিপিআই সাংসদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন প্রত্যেক সাংসদের অধীনে ৫,০০০ জন মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হবে।
এনসিপিআই সাংসদের ৫০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনার সুযোগ
চলতি মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বহু উপভোক্তা টাকা পেলেও, এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টেই টাকা আসেনি বলে শোনা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেক সাংসদ (এনসিপিআই) পিছু ৫০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সুযোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ, এই কুড়িজন তাঁদের সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যে সমস্ত মহিলারা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তেমনই ৫,০০০কে এই প্রকল্পের সুবিধা দেবেন।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সাথে বৈঠক NCPI সাংসদদের, কোন বিষয়ে হল আলোচনা?
মঙ্গলবার বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় অন্নপূর্ণা যোজনা সর্ম্পকে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। সাংসদ বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সাথে আজকের মিটিংটি খুবই ইতিবাচক হয়েছে। সাংসদের এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কতগুলো রাস্তা করা হবে, কতগুলো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (ICDS) করা হবে। এর পাশাপাশিই শতাব্দী রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এমন অনেকে আছেন যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার সত্ত্বেও সুবিধা পাননি, সেই রকম ৫,০০০ জনের সুপারিশ করতে পারবেন প্রত্যেক সাংসদ।
আরও পড়ুন: এবার কার্ড পিছু ৭ কেজি খাদ্যশস্য, বাংলায় কবে থেকে শুরু স্মার্ট রেশন?
সূত্র মারফৎ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদ মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, তৃণমূলের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসার পর এনডিএ (NDA) সমর্থিত দলের অংশ হওয়া সত্ত্বেও নীচুতলার বিজেপি কর্মীরা এখনও তাদের সহযোগিতা করছেন না। আগের মানসিকতা পোষণ করে তাদের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনও যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না বলেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন ওই সাংসদেরা। জগদীশ বসুনার মতো সাংসদ নিজের এলাকাতেই যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এরকম অবস্থায় ওই সাংসদদের ৫,০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনার সুপারিশ করার ক্ষমতা দিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর সুযোগ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী – এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।










