বারুইপুর কাণ্ডে এবার রাজপথে প্রতিবাদী মিছিল! অনুমতির জন্য হাইকোর্টে ছুটলেন মমতা

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগ ব্রেকিং! বারুইপুর কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে এবার পথে নামতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানা গিয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ ৮ জুলাই পথে নামার জন্য অনুমতি চেয়েছেন তিনি। কিন্তু পুলিশ ওই মিছিলের জন্য অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের। ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্ট। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

মিছিল করার অনুমতি দিল না পুলিশ

২০২৪ সালে অভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে যখন গোটা বিশ্ব সোচ্চার হয়েছিল, তখন রাজ্যবাসীকে উৎসবে ফেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র, বারুইপুরের বুকে ঘটে যাওয়া ১২ বছরের নাবালিকার গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে এবার রাস্তায় নামতে চাইছেন সেই মমতা। গতকাল, কালীঘাটে নিজের বাড়ির সামনে মোমবাতি হাতে নিয়ে মিছিল করতে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার প্রমুখ। কিন্তু বুধবার তৃণমূল প্রতিবাদের মিছিল বের করতে চাইলে অনুমতি দিতে চাইছে না পুলিশ।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার কালীঘাট তৃণমূল মিছিল করতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় আজ, মঙ্গলবার, কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হাই কোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অভিযোগে জানান, বারুইপুর কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুর প্রতিবাদে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্স ডাউন মার্কেট পর্যন্ত মিছিল করতে চায় তৃণমূল কিন্তু পুলিশ মিছিলের জন্য অনুমতি দিচ্ছে না। সেই কথা শুনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতি। আজ দুপুর ২টোয় সেই মামলার মামলার শুনানি হতে পারে।

আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকার ওষুধ মাটিতে পোঁতার অভিযোগ! অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে ফের FIR

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের আমলে, গত ১৫ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি — প্রতিক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়গুলোকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তন হতেই উলটো সুর গাইলেন তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। সমালোচকদের দাবি, নিজের দলকে পুনরায় শক্তিশালী করে তুলতে এভাবেই মৃত্যুকে হাতিয়ার করে মমতা ফের রাজনীতির মূল স্রোতে আসতে চাইছেন।