মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র, হোটেলে ঢুকল জল

Published:

Mandarmani

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর ছুটিতে মন্দারমণি (Mandarmani) বেড়াতে গিয়েই বিপত্তি। ইতিমধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন হাওড়ার ছয় বন্ধু। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে প্রথমে চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিলেন বাকি দু’জন। পরে দু’জনেরই মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, মন্দারমণির সমুদ্রের জল বেড়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ঢুকে পড়ার খবর ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিকটবর্তী হোটেলগুলিতেও জল ঢুকে পড়েছে।

সমুদ্রে স্নান করতে নেমে বিপত্তি

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার, ২১ অক্টোবর, হাওড়ার ডোমজুড় থেকে ছয় বন্ধুর একটি দল মন্দারমণি বেড়াতে যায়। পরের দিন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর বিকেলে তাঁরা সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। সেই সময় আচমকাই প্রবল স্রোতের টানে ছয়জনই বিপদে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে মন্দারমণির ১ ও ২ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায়। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হাওড়ার বাসিন্দা শাহিল খান ও শাহিদ আলম। প্রথমে শাহিলের দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দ্বিতীয় যুবক শাহিদের দেহ উদ্ধারের খবরও সামনে আসে।

বাড়ছে সমুদ্রের জল, উদ্বেগ সৈকত সংলগ্ন এলাকায়

মন্দারমণি ও আশপাশের উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের বড় ঢেউ এবং জল সৈকত ছাপিয়ে উঠে আসার ঘটনা আগেও আগেও ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে নিম্নচাপের প্রভাবে মন্দারমণি, দিঘা ও তাজপুরে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় সৈকত সংলগ্ন ছোট দোকান এবং বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকে পড়ার কথাও জানানো হয়।

এবারও নিকটবর্তী হোটেলগুলিতে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে ২৪ অক্টোবরের পরিস্থিতিতে ঠিক কতগুলি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কতটা জল ঢুকেছে কিংবা প্রশাসনের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্দারমণিতে পরপর সমুদ্র দুর্ঘটনার জেরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর আগেও বিপজ্জনক এলাকায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামা আটকাতে প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো এবং সৈকতের নির্দিষ্ট অংশে ব্যারিকেড তৈরির খবর সামনে এসেছিল।

আরও পড়ুন: শিয়ালদায় লোকো পাইলটের কেবিনে উঠে ট্রেন চালানোর চেষ্টা! নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

সমুদ্রের স্রোত ও ঢেউয়ের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সমুদ্র উত্তাল থাকলে জলে নামা, ঢেউয়ের খুব কাছে দাঁড়ানো কিংবা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করা বিপজ্জনক হতে পারে। বেড়াতে গিয়ে যাতে আর কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিজ উদ্যোগে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

google button