গরু খাব না, পোল্ট্রি-খাসি দিয়েই চালাব! বেলডাঙা পশুর হাটের ভিডিও ভাইরাল

Published:

Muslims In Beldanga

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। আর তাতেই কালঘাম ছুটছে একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর। এদিকে কিছুদিন আগেই গবাদি পশু ‘জবাই’ নিয়ন্ত্রণে (Cattle Protection Rules) অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল নবান্ন। যা নিয়ে কম বিতর্ক তৈরি হয়নি রাজনৈতিক মহলে। এবার সেই নির্দেশে অন্য সুর শোনা গেল বেলডাঙার মুসলিম সম্প্রদায়ের (Muslims In Beldanga) গলায়। গো-মাংস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করলেন তাঁরা।

‘জবাই’ নিয়ন্ত্রণ করতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

গত ১৩ মে, নবান্নের তরফে পশু ‘জবাই’ নিয়ন্ত্রণ করতে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গরু, মহিষ বা বলদ-সহ কোনও পশুই আর যত্রতত্র বা প্রকাশ্য স্থানে ‘জবাই’ করা যাবে না। পশুবধের এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ‘কসাইখানাতেই’ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় রাজ্যে বেআইনি পশু পাচার রোখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে গো-মাংস খাওয়া বন্ধ করল বেলডাঙ্গার মুসলিমরা।

কী বলছেন মুসলিমরা?

রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় মুসলিমরা দাবি করছেন যে, “আমরা গোমাংস বয়কট করে দিয়েছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন তিনি যেন গরুকে নিষিদ্ধ করে দেয়, আমাদের এতে কোনো অসুবিধা নেই। এমনিতেই শরীরে পক্ষে এই মাংস খাওয়া ভালো না। আমরা মাছ, মুরগি, ডিম, সবজি খেয়ে বাঁচতে পারব। আমরা সমস্ত মুসলিম ভাইদের বলতে চাই যে সরকার যে নিয়মটা চালু করেছে আমাদের সকলের কথা ভেবেই করেছে, তাই আমাদের উচিত মাথা পেতে এই নির্দেশ মেনে নেওয়া যায়। এতে আমাদের লাভ হবে। তবে ছাগলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তাই সরকারের উচিত এই ব্যাপারটা দেখা।”

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত! ১১০০ তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা তুলে নিল নবান্ন, তালিকায় কে কে?

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কসাইখানায় ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও গরুকে জবাই করা যাবে না। এবার এই নিয়মটি যাতে পশ্চিমবঙ্গে কঠোরভাবে পালন করা হয়, তাই নিয়ে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। এখন দেখার এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়।