সহেলি মিত্র, কলকাতা: আর কত বঞ্চনা সইতে হবে? বকেয়া ডিএ (DA Case Bengal) না পেয়ে ঠিক এই প্রশ্নই তুলছেন বহু সরকারি কর্মী। কিছু সংখ্যক কর্মী থেকে পেনশন প্রাপক টাকা পেলেও শিক্ষক, শিক্ষকর্মী থেকে শুরু করে গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant In Aid) কর্মীদের কপাল খোলেনি। এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ইন্দু মলহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটির তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা পড়েছে। তবে রিপোর্টে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের দাবির উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির মধ্যে।
ডিএ মামলার তৃতীয় রিপোর্ট ঘিরে তরজা শুরু
কর্মদির অভিযোগ, রিপোর্ট তৈরির আগে বিভিন্ন কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছিল এবং সেগুলি বিবেচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁদের দাবির প্রতিফলন দেখা যায়নি। এদিকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত নজরদারি কমিটির কাছে রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া তৃতীয় অন্তর্বর্তী রিপোর্টে অনুদানভুক্ত কর্মীদের বকেয়ার হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ এর আগে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার হিসাবের মধ্যে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের হিসাবও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে সেই হিসাব কমে ৮,১০৩ কোটি টাকা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য। ফলে বিপুল অঙ্কের এই পার্থক্য এবং অনুদানভুক্ত কর্মীদের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বড় দাবি কর্মীদের
শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বোর্ড ও কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএর হিসাব স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। সর্বভারতীয় মূল্যসূচক এবং ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ প্রদান, অনুদানভুক্ত কর্মীদের বকেয়ার পৃথক ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং নজরদারি কমিটির নিয়মিত বৈঠকের দাবিও জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পুলিশ কর্মীদের খাবারের বরাদ্দ আড়াই গুন বাড়াল নবান্ন, কত করে মিলবে?
জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ ডিসেম্বর কলকাতায় নজরদারি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএর হিসাব ও তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। তবে রিপোর্টে ঠিক কী উল্লেখ রয়েছে এবং বকেয়ার হিসাবের পার্থক্যের প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত করতে সরকারি নথি ও আদালতের নথি যাচাই করা জরুরি।










