প্রসবের পর সদ্যোজাতকে জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলল নাবালিকা মা! শোরগোল উত্তরপাড়ায়

Published:

Hooghly

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভয়ংকর কাণ্ড হুগলির (Hooghly) উত্তরপাড়া পুরসভার একটি নার্সিংহোমে, সেখানকার শৌচাগারে সন্তান প্রসবের পর জানলা দিয়ে সদ্যোজাতকে নীচে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল নাবালিকা মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে (Hooghly Newborn Case) কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ঠিক কী কারণে এই কাণ্ড তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার, গভীর রাতে পেটে ব্যথা নিয়ে উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে বছর ষোলোর এক নাবালিকা ভর্তি হয়েছিলেন। পরেরদিন অর্থাৎ শনিবার সেই নাবালিকা একা একা শৌচাগারে গিয়েছিলেন আর অভিযোগ তখনই নাকি সন্তান প্রসবের পর জানলা দিয়ে সেই সদ্যোজাতকে নীচে ছুড়ে ফেলে দেন। এদিকে তাঁর পরিবারের দাবি, তাদের মেয়ে যে সন্তানসম্ভবা ছিল সেটা তাঁরা জানতেন না। নাবালিকার মা বলেন, “বিশ্বাস করুন আমরা কিছুই জানতাম না। ও পেটে ব্যথা বলছিল, সেই কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম।”

কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি অজানা ছিল

নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তথা চিকিৎসক সুচেতা মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে ওই কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তাঁরাও জানতেন না। সকালে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হয় এর জন্য। কিন্তু সেই রিপোর্ট আসার আগেই ভয়ংকর কাজ করে ফেলে ওই নাবালিকা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকার এক স্থানীয় যুবক সৌভিক দাস জানান, শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ তিনি এলাকায় কাজ করছিলেন। আচমকাই উপর থেকে কিছু একটা নীচে পড়ার শব্দ পান তিনি। কাছে গিয়ে দেখেন, মাটিতে পড়ে রয়েছে এক সদ্যোজাত। তাঁর দাবি, এর পরেই নার্সিংহোম থেকে একজন নার্স তড়িঘড়ি নীচে নেমে এসে শিশুটিকে তুলে নিয়ে ভিতরে চলে যান।

আরও পড়ুন: আয়ের নিরিখে এগিয়ে বাংলার এই পাঁচ রেলস্টেশন, দেখে নিন তালিকা

শনিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নার্সিংহোমে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, “এটা এক ধরনের অপরাধ। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” এর আগেও ওই নার্সিংহোমের নীচ থেকে ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

google button