প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) ফের নয়া মোড়, গ্রেফতারির তালিকায় নাম জুড়ল পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে- র (Somnath De Arrested)। জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিলোত্তমার মৃতদেহ তড়িঘড়ি দাহ করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এর আগে ওড়িশার বিভিন্ন জায়গা, হায়দরাবাদে সোমনাথ দে-র খোঁজে তল্লাশি করেছিল পুলিশ। জানা গিয়েছে আজ বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে তোলা হবে সোমনাথ দে-কে।
তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে তিলোত্তমার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের মতোই সোমনাথ দে-ও অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। হাসপাতাল থেকে পানিহাটিতে তিলোত্তমার বাড়িতে দেহ নিয়ে আসা এবং তড়িঘড়ি দাহ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে অভিযোগ। তিলোত্তমার পরিবারের দাবি, তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তড়িঘড়ি সমস্ত আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দেহ দাহ করার বন্দোবস্ত করেছিলেন। আসলে মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা। এদিকে ঘটনার পর থেকেই সোমনাথ দে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার প্রাক্তন চেয়ারম্যান
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা এর আগে ওড়িশার বিভিন্ন জায়গা, হায়দরাবাদেও প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল। অবশেষে বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার তদন্তকারী অফিসাররা। আজ, ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে নিয়ে আসা হবে খরদহ থানায়। সেখানেই তাকে এই ঘটনার একাধিক বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমনাথ দে তার পুরনো ফোন নম্বর পরিবর্তন করে নতুন বেশ কিছু সিম ব্যবহার করেছিলেন সেই কারণে তাকে ট্রেস করতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: লাগবে না এক টাকাও, ফ্রিতে সোলার প্যানেল দিচ্ছে সরকার! দেখুন আবেদন পদ্ধতি
কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আরজি করের তরুণী চিকিৎসক পানিহাটির অভয়ার হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় নতুন করে খড়দহ থানায় ডায়েরি করেছিলেন তিলোত্তমার বাবা। সেই মামলায় ইতিমধ্যেই পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল খড়দহ থানার পুলিশ। যদিও আরজি কর কাণ্ডে জামিন পেলেও নির্মল ঘোষের জেলমুক্তি ঘটেনি। এদিকে অভয়ার খুন-ধর্ষণের মামলায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন তিলোত্তমার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।










