প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দুর্গাপুজো কাটতেই ফের আলোচনায় উঠে আসছে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল (Pass Fail System) ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। তবে এবার শুধু স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন নয়, পাশ ফেল ফিরিয়ে আনার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব রাখলেন রাজ্যের সিলেবাস কমিটি (West Bengal Syllabus Committee)। চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের তরফে জানানো হয়েছে যে, একেবারে প্রাইমারি যদি বাদও থাকে, পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সরকারি বিদ্যালয়ে ফিরুক পাশ-ফেল। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই সাধুবাদ জানাচ্ছে শিক্ষক সংগঠন এবং অভিভাবকরা।
পাশ ফেল ফেরাতে চাইছে সিলেবাস কমিটি
সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন স্কুলে পাশ ফেল ফিরিয়ে আনার জন্য একটি শিক্ষক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই সময় এই নিয়ে নানা মতামত উঠে এসেছিল। কিন্তু এবার পুজোর পরেই রাজ্যের নতুন স্কুল সিলেবাস ও কারিকুলাম এক্সপার্ট কমিটিও পাশ-ফেল ফেরানোর ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সিলেবাস কমিটি মনে করছে, প্রাইমারি না হলেও, পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সরকারি বিদ্যালয়ে ফিরুক পাশ-ফেল।
পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ
সিলেবাস কমিটির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেল করা স্টুডেন্টদের জন্য প্রয়োজনে রেজাল্ট প্রকাশের পরে অতিরিক্ত ১৫ দিন অথবা এক মাস রেমেডিয়াল ক্লাস করিয়ে আরও একবার পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। যাতে ফেল করা পড়ুয়ারা পাশ করার সুযোগ পায়। কিন্তু যদি সেখানেও তারা ফেল করেন তাহলে তাদের এক ক্লাসেই রেখে দেওয়া হবে। এই মর্মেই আপাতত রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “স্কুলশিক্ষার যা হাল, তাতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যতে বড়ো বিপর্যয় হবে।”
আরও পড়ুন: ‘রাজনীতিতে অবদান নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েই আলোচনা হয়’ কড়া মন্তব্য দিলীপ ঘোষের
কী বলছেন চেয়ারম্যান?
দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে, “পঞ্চম শ্রেণী থেকে পাশ ফেল চালু করা নিয়ে যদি বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাব আসে, তাহলে আমরা সেটা বিবেচনা করে শিক্ষাদপ্তরের কাছে সুপারিশ করব। যদিও এই প্রথা ফিরিয়ে আনতে কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়।” অন্যদিকে অল বেঙ্গল সেভ এডুকেশন কমিটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘১৯৮২ সালে বামফ্রন্ট সরকার চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল তুলে দিয়েছিল। আর ২০০৯ সালে ইউপিএ-২ সরকার শিক্ষার অধিকার আইন এনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল তুলে দেয়। যদি সিলেবাস কমিটির তরফে এই প্রথা ফিরিয়ে আনা হয় তাহলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ঠিক থাকবে।”










