সকালে ফের কালীঘাটে বাড়ল পুলিশি নজরদারি, মমতার বাড়ির সামনে কড়া নিরাপত্তা

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বারুইপুর কাণ্ড (Baruipur Rape Case) নিয়ে উত্তপ্ত গোটা বাংলা, এমতাবস্থায় গতকাল ফেসবুক লাইভে হাউস অ্যারেস্ট করার অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বারুইপুরে যেতে না দেওয়া নিয়ে করেছিলেন অভিযোগ। যদিও রাতেই মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরে গিয়েছিল পুলিশ, কিন্তু রাতের পর সকালে কালীঘাটে (Kalighat) ফের দেখা গেল পুলিশি তৎপরতা। এক এক বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও।

রবিবার রাত থেকেই কালীঘাটে পুলিশি তৎপরতা

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, রবিবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারুইপুর। দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখানো থেকে শুরু করে এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি এমনকি উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে পুলিশ। তাদের আক্রান্তও হতে হয়েছে। এই অবস্থায় গতকাল সন্ধের পর থেকে হঠাৎ করে কালীঘাটে পুলিশি তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল। একে একে জড়ো হন ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারুইপুরে যেতে দেওয়া হবে না বলেই পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলেছে।

কী অভিযোগ করেছিলেন মমতা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, তাঁকে বারুইপুরে যেতে না দেওয়ার জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, আমি খুবই উদ্বিগ্ন। কোনওদিন দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা পছন্দ করি না এবং করিনি। ভেবেছিলাম তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে একাই যাব। কিন্তু আমার বাড়ির সামনে থেকে একেবারে সমস্ত রাস্তায় প্রায় ১০০০ পুলিশ, CRPF থেকে শুরু করে গুন্ডা দমন পুলিশ, সবাই মিলে জমায়েত হয়েছে। আমাদের নাকি হাউজ অ্যারেস্ট করা হয়েছে। মুখে না বললেও এটা তো তারই প্রমাণ।”

আরও পড়ুন: বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে সোশ্যাল পোস্ট সায়নীর, ‘ভার্চুয়াল উপস্থিতি’ নিয়ে উঠল বিতর্ক

ফের সকালে বদলে গেল চিত্র

কালীঘাটে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “এমন কী ঘটল যে আমার বাড়ির সামনে রুট মার্চ করতে হচ্ছে? এখানে তো কোনও ১৪৪ ধারা নেই। পুলিশ মোবিলাইজেশন করা হয়েছে কেন? আমরা কি চোর না ডাকাত?” তবে, এরপরই দেখা যায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালীঘাট থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য যেঁটুকু নিরাপত্তা বরাদ্দ, সোমবার সকালে কালীঘাটের বাড়ির সামনে সেটুকুই দেখা গেল। কিন্তু সকাল ৯টার পর থেকেই ধীরে ধীরে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।