সাড়া দেয়নি প্রশাসন, গাঁটের কড়ি খরচা করে পড়ুয়াদের জন্য রাস্তা বানালেন প্রধান শিক্ষক

Published:

Headmaster of Ismailpur Primary School

অনন্যা সরকার, দক্ষিণ দিনাজপুর: শিক্ষকরা আমাদের জীবনে চলার পথে পথপ্রদর্শক হয়ে দিশা দেখান। আবার পথ বন্ধুর হলে সেই পথ নির্মাণও করেন শিক্ষক। হ্যাঁ, এমনই নজির গড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) হিলি ব্লকের অন্তর্গত বিনশিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইসমাইলপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (Primary School) প্রধান শিক্ষক দেবকুমার লাহা। পড়ুয়াদের যেন কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করে স্কুলের সদর দরজা থেকে বিদ্যালয় ভবন পর্যন্ত ঘাসজমিতে পাকা রাস্তা তৈরি করলেন প্রধান শিক্ষক (Headmaster)। 

প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে তৈরি হল পাকা রাস্তা 

ইসলামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এছাড়া, স্কুলে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক সহ দুজন শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে স্কুলের মূল বিল্ডিং পর্যন্ত কোন রাস্তাই ছিল না। অগত্যা ঘাসের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হতো ছোট ছোট পড়ুয়াদের। বর্ষাকালে কাদা ও জল জমে চলাচল করাই দুষ্কর হয়ে পড়তো। ঐটুকু অংশে পাকা রাস্তা তৈরির জন্য পঞ্চায়েত থেকে ব্লক অফিস – সব জায়গায় দরখাস্ত করা হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে। কিন্তু তাদের থেকে কোন সাড়া না পেয়ে শেষমেশ নিজেই ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ মিটার লম্বা এবং ৪.৫ ফুট চওড়া সিমেন্টের রাস্তাটি বানিয়ে ফেলেছেন প্রধান শিক্ষক দেবকুমার লাহা। তার এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা। 

দেবকুমার লাহা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে তিনি ইসমাইলপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন। সেই সময় স্কুলের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল।গত দেড় বছরে বেশ কিছু কাজ হয়েছে এবং এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। স্কুলের সিলিং ভেঙ্গে পড়ছে, শৌচালয়ের অবস্থাও খারাপ। তার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এই ভুল করলেই অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে আপনার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা

প্রধান শিক্ষক এও বলেন যে, স্কুল গেট থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটির জন্য প্রশাসনিক মহলে দরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও সুরাহা না হওয়ায় বাচ্চাদের যাতায়াতের সুবিধা ও স্কুলের নান্দনিকতার দিকটি বিচার করে তিনি নিজেই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। দেবকুমার লাহার মতে, প্রতিটি শিক্ষকেরই বিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে, শিক্ষক হিসেবে এটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি খুবই খুশি।