সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাস্তায় অবৈধ টোটো, অটো বা ই-রিক্সার মতো যানবাহনের জেরে দিনের পর দিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বাস চালক এবং মালিকপক্ষ। সেই অভিযোগে এবার বড় সিদ্ধান্ত নদিয়ার (Nadia) বেসরকারি বাস সংগঠনের। জেলাজুড়ে বন্ধ বাস পরিষেবা। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। টোটো এবং অটোর দৌরাত্ম্যের জেরেই বন্ধ হয়ে গেল বেসরকারি বাস পরিষেবা। এমনকি দূরপাল্লার যাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নদীয়া জেলাজুড়ে বাস ধর্মঘটের ডাক
রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছিলেন, হাইরোডে চলবে না টোটো বা অটো। তবে নিয়ম কার্যকর না হওয়ায় বাস ধর্মঘটের ডাক দিল সংগঠন। আজ সকাল থেকেই নদীয়ার কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি রানাঘাট, কালনা, দত্তপুলিয়া, নবদ্বীপ, করিমপুর, পলাশীসহ একাধিক রুটে বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘট বা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে সংগঠন। যার জেরে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। এক অসহায় যাত্রী জানিয়েছেন, “আমি জানতামই না যে বাস বন্ধ। টোটো ১২০ থেকে ১২৫ টাকা করে ভাড়া চাইছে। বাসে যেতে খরচ হত মাত্র ৪৫ টাকা। কী করব বুঝতে পারছি না।”
তবে বাস কর্মীদের অভিযোগ, এখন যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আর বাসের জন্য অপেক্ষা করে না। রাস্তায় টোটো বা অটোর কোনও অভাব নেই। বাসের সামনে থেকেই টোটো এবং অটো চালকরা যাত্রীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর কারণে বাস চালকদের নিয়মিত লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু দিন জ্বালানির দামটুকু তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের নির্দেশিকা সত্ত্বেও জাতীয় সড়কে বেআইনি ব্যাটারিচালিত গাড়ি এবং টোটো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনকি এদের জন্য পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ফের পুলিশ ও দমকল, এবার কী কারণে?
তাদের অভিযোগ, এমন একটা সময় ছিল যখন প্রচুর সংখ্যক বেসরকারি বাস চলত এই রুটে। তবে বর্তমানে সেই বাসের সংখ্যা কমতে কমতে গোটা জেলায় মাত্র ৫০০-র ধারেকাছে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনন্দিন খরচ ওঠা তো দূরের কথা, কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দেওয়ার টাকাটুকু উঠছে না। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্যই বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।










